তেহরানের সমাবেশে ৩০ লাখ মানুষঃ ইরানের মানুষ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে- আয়াতুল্লাহ খামেনি


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ /
তেহরানের সমাবেশে ৩০ লাখ মানুষঃ ইরানের মানুষ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে- আয়াতুল্লাহ খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে গতকাল (সোমবার) অনুষ্ঠিত সমাবেশের প্রশংসা করে বলেছেন, সারাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এবং ভাড়াটে এজেন্টদের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিদেশি চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।

বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গার নিন্দা জানিয়ে এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের পর সোমবার রাতে ইরানি জনগণের উদ্দেশ্যে একটি বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনি এই মন্তব্য করেন।

তেহরানসহ ইরানের বেশিরভাগ প্রদেশে বিক্ষোভ শুরু হয় স্থানীয় সময় বিকাল ২টায় এবং স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলতে থাকে। তবে, কিছু অন্যান্য প্রদেশে বিক্ষোভ শুরু হয় আগে, সকাল ৯টায় এবং ১১টায়। দেশজুড়ে ভোর ৯টা থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানেই প্রায় ত্রিশ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তায় বলা হয়, ‘ইরানের মহান জাতি একটি মহান কাজ করেছে এবং ‘একটি ঐতিহাসিক দিন’ তৈরি করেছে। দৃঢ় সংকল্পে পরিপূর্ণ এই মহান সমাবেশগুলো বিদেশি শত্রুদের পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে যা দেশীয় ভাড়াটে অনুচরদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ইরানের মহান জাতি শত্রুদের কাছে নিজেকে, তার দৃঢ় সংকল্প এবং পরিচয় তুলে ধরেছে। এটি ছিল আমেরিকার রাজনীতিবিদদের জন্য তাদের প্রতারণা বন্ধ করার এবং বিশ্বাসঘাতক ভাড়াটেদের উপর নির্ভর না করার জন্য একটি সতর্কীকরণ।’

আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরানি জনগণকে ‘শক্তিশালী, ক্ষমতাধর এবং সচেতন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা যেন সংকটের সময়ে উপস্থিত এবং সতর্ক থাকেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সাম্প্রতিক দাঙ্গার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে লাখ লাখ মানুষের ‘মহাকাব্যিক’ উপস্থিতির প্রশংসা করে বলেছেন, এই বিপুল জনসমাগম বিদেশি শত্রুদের ও তাদের ভাড়াটে এজেন্টদের ‘অশুভ পরিকল্পনা’ নস্যাৎ করে দিয়েছে।

বিক্ষোভ-সমাবেশের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান অস্থিরতা ও বিদেশি হস্তক্ষেপের মুখে জনগণের ‘অটলতা ও দৃঢ় অবস্থান’-এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এই সমাবেশকে ‘অতুলনীয় সতর্কতা ও দায়িত্ববোধ’-এর নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ‘নিপীড়ক শত্রু ও তাদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও জাতীয় আদর্শ রক্ষায় জনগণের দৃঢ় অবস্থানকে তুলে ধরে। তিনি উল্লেখ করেন, অভ্যন্তরীণ অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থ ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতাই মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ঐক্যের মূল ভিত্তি ছিল।

পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, সব প্রদেশজুড়ে প্রদর্শিত এই ঐক্য যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্ররা এবং ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার ‘অপরাধমূলক তৎপরতা’র বিরুদ্ধে এক দৃঢ় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, এই সমাবেশ সরকারের জন্য দেশের চ্যালেঞ্জগুলো ভেতর থেকেই মোকাবিলায় আরও দৃঢ় সংকল্প জুগিয়েছে।

গত মাসে বিভিন্ন শহরে অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে কিছু দোকানদার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছিল, কিন্তু মার্কিন ও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর দাঙ্গা ও বিশৃঙ্খলাকে উৎসাহিত করায় বিক্ষোভগুলো সহিংসতার দিকে মোড় নেয়। নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় সংস্থাগুলো বলেছে, তারা এই অস্থিরতার সময়ে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নির্মূল করেছে এবং বিদেশ-সম্পর্কিত অপারেটিভদের গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে ইসরাইলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের এজেন্টও রয়েছে।