উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম। আপনারা সকলেই অবগত আছেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ০৩টি (গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও যশোর) জেলার ১৬ টি উপজেলার ১১ টি সংসদীয় আসনে মোট ২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনী এলাকায় ১১ টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ০২টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে এবং অন্যান্য উপজেলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যা ব ও আনসার এর সাথে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
উল্লেখ্য গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তফসিল ঘোষণার পর যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য রেকি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ হতে ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্বাচনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন সম্পন্ন করা হবে। মোতায়েনের পর ০৩টি জেলার গুরুত্বপূর্ণ ৭০ টি স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্টের মাধ্যমে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় টহলের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্র রেকি করতঃ দায়িত্ব পালন করবে।
এছাড়াও যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) কর্তৃক নির্বাচনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে অপারেশন ডেভিল হান্ট-২ এ অংশগ্রহণ করছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন চলাকালীন দুস্কৃতিকারীরা যাতে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিজিবি সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নিয়মিত জনসচেতনামূলক সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে উদ্ভুদ্ধকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এছাড়াও রিজিয়ন সদর দপ্তর, যশোরের অবশিষ্ট ০৬টি ব্যাটালিয়ন ১৫ টি জেলার ৯২ টি উপজেলার ৫১ টি সংসদীয় আসনে ৭৯ টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে প্রায় ১৮০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন এর মাধ্যমে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর নিরলস প্রচেষ্টায় গত ২০২৫ সালে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ১০৫ জন আসামীসহ সর্বমোট ৮২,৪৫,৬৪,০৮৪/-(বিরাশি কোটি পয়তাল্লিশ লক্ষ চৌষট্টি হাজার চুরাশি) টাকার অধিক মূল্যের চোরাচালানী মালামাল আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে স্বর্ণ ২৩.২৫৯৪ কেজি, রৌপ্য-৭০ কেজি ৫০০ গ্রাম, পিস্তল-০২, গুলি-১০০ রাউন্ড, ইউএস ডলার-৪০০০০, সৌদি রিয়াল-১১০০০০ ইত্যাদি উল্লেখ্যযোগ্য। এছাড়াও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে গত ২০২৫ বছরে যশোর ব্যাটালিয়ন কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মদ-২,৬৭৪ বোতল, হেরোইন-৫০০ গ্রাম, ইয়াবা-৪০২৭ পিস, ফেন্সিডিল-১২৬০ বোতল, গাঁজা-৩৫৯ কেজি, বিভিন্ন প্রকার মেডিসিন-৬৬১৪৭ পিসসহ সর্বমোট ৩,২৭,৩৭,৭৩৫/- (তিন কোটি সাতাশ লক্ষ সাইত্রিশ হাজার সাতশত পয়ত্রিশ) টাকার মাদক ও ৬০ জন আসামীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
আপনারা জানেন, বাংলাদেশের মোট ৪,৪২৭ কিঃ মিঃ (ভারতের সাথে ৪,১৫৬ কিঃ মিঃ এবং মায়ানমারের সাথে ২৭১ কিঃ মিঃ) সীমান্তের মধ্যে যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ কুস্টিয়া হতে সাতক্ষীরার সুন্দরবন পর্যন্ত ৬০০ কিঃ মিঃ এলাকা বিস্তৃত। এই বিস্তৃর্ণ এলাকায় বিদ্যমান সীমান্তে বিজিবি যশোর রিজিয়নের কুষ্টিয়া ও খুলনা সেক্টরের অধীনে ০৭টি ব্যাটালিয়ন চোরাচালান প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যাদের নিরলস প্রচেষ্টায় গত ২০২৫ সালে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৩৮০ জন আসামীসহ সর্বমোট ৩৭৭,৪৬,৭৫,৬২০/-(তিনশত সাতাত্তর কোটি ছেচল্লিশ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার ছয়শত বিশ) টাকার অধিক মূল্যের চোরাচালানী মালামাল আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে স্বর্ণ ৫৮.৪৯৩৪৮ কেজি, রৌপ্য ১২৪.১২ কেজি, অস্ত্র-২৭ টি এবং গুলি ১৫২ টি ইত্যাদি উল্লেখ্যযোগ্য। এছাড়াও গত ২০২৫ বছরে যশোর রিজিয়ন কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মদ-২৮৩৯৩ বোতল, হেরোইন-৩৭.৫৩৯৩ গ্রাম, ইয়াবা-২৬৫৩৭৩ পিস, ফেন্সিডিল- ৪৯০৮৮ বোতল, গাঁজা-১৬৭৭.৪৬৪ কেজি, বিভিন্ন প্রকার মেডিসিন-২৬৮৩২৬ পিস আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- বিজিবি’র পক্ষে একা এই চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করা কষ্টকর। এজন্য আমাদের প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ, পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ, আপনাদের সহযোগিতা সীমান্ত সুরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়। সীমান্ত সুরক্ষিত রাখলে দেশ সুরক্ষিত থাকবে। তাই আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পরিশেষে আমরা জানাতে চাই - বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিটি সদস্য সর্বদা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্তে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকবো, ইনশাআল্লাহ।