দিল্লিতে ছেলেকে বাঁচাতে আশা মুসলিম বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছে


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ /
দিল্লিতে ছেলেকে বাঁচাতে আশা মুসলিম বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছে

উত্তর-পূর্ব দিল্লির নন্দ নগরী এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের কিশোর ছেলেকে হিন্দুত্ববাদী উন্মত্ত জনতার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে ৩৫ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যক্তি গুলিতে নিহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ওই কিশোরকে হেনস্তা করা হচ্ছিল।

নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ওমরদিন। তাকে গুরু তেগ বাহাদুর (জিটিবি) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যদের মতে, ওমরদিন যখন তার স্ত্রী, মা এবং কন্যাদের সাথে বাড়িতে চা খাচ্ছিলেন, তখন তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে তহজিমের কাছ থেকে একটি আতঙ্কিত ফোন পান। তহজিম জানায় যে, একদল ছেলে তাকে ঘিরে ধরে মারধর করছে।

নিহতের মা অভিযোগ করে বলেন, “ওরা আমার নাতিকে আটকে বলেছিল, ‘এ মুসলমান, একে মারো।’ তারা বাচ্চাটাকে এতো জোরে মেরেছে যে ওর মাথা ফেটে গেছে।” তিনি আরও জানান যে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই তার নাতিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

তহজিম ফোনে বলেছিল, “বাবা, আমাকে বাঁচাও। ওরা আমাকে খুব মারছে… সোনু আর ওর ভাই সরদার আমাকে মারছে।” ছেলের আর্তনাদ শুনে ওমরদিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্তদের মুখোমুখি হন। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত দুই ভাই বাড়ির ভেতর থেকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

এক পর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন ঘর থেকে বন্দুক নিয়ে বেরিয়ে আসে এবং ওমরদিনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিটি সরাসরি তার বুকে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে জানান। শোকার্ত স্ত্রী বিলাপ করে বলেন, “ওরা আমার সন্তানদের মাথা থেকে বাবার ছায়া কেড়ে নিল।”

ওমরদিনের বৃদ্ধা মা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “যার স্বজন যায়, সেই ব্যথা বোঝে। পুলিশ বা জনগণের কিছু যায় আসে না। ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর এখন কী হবে?”

বুধবার এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত সোনু ও সরদারের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হয়ে জিটিবি গোলচত্বর অবরোধ করেন। পুলিশ অপরাধীদের ধরার আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত পরিবারটি মরদেহ দাফন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে এবং আশ্বাসে ওমরদিনের দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং পুলিশের টহলও সেখানে অপর্যাপ্ত। পুলিশ এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং ফরেনসিক তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে।