চট্টগ্রামে বিএনপির মহাসমাবেশ উপলক্ষে নেতাকর্মীরা ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোর থেকে কেউ আসছেন দলবেঁধে, কেউ কেউ আবার রাত থেকেই অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘ দুই দশকের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সমাবেশস্থল ও আশেপাশের এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুনে পুরো এলাকা ছেয়ে গেছে।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পলোগ্রাউন্ড মাঠের সামনের দিকে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতির সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। আগেভাগে আসা নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের প্রধানকে কাছে থেকে একনজর দেখার আগ্রহেই তারা সকালবেলা থেকেই সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।
সমাবেশস্থল ও আশেপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাতকানিয়া থেকে আসা বিএনপি কর্মী আমির হোসেন বলেন, “তারেক রহমানকে চট্টগ্রামে সামনে থেকে দেখার অপেক্ষা বহু বছর ধরে ছিল। আজ সেই অপেক্ষা শেষ হচ্ছে।” দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হায়দার চৌধুরী জানান, তারা রাত থেকেই সমাবেশস্থলের আশেপাশে অবস্থান করছেন এবং সকালের প্রোগ্রামের পরেই অনুষ্ঠান শেষ করতে যাচ্ছেন।
দীর্ঘ দুই দশক পর শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে সরাসরি রেডিসন ব্লু হোটেলে যান এবং রাত যাপন করেন।
দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। চট্টগ্রাম সফরের পর তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেবেন মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। মঞ্চসহ পুরো এলাকা তিন স্তরের নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।
মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক রাখা হয়েছে। পুরো মাঠকে গ্রিন জোন হিসেবে রাখা হয়েছে।
তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে সফর করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে লালদিঘী ময়দানে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন। এইবারের সমাবেশও তাই দলীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।