দেশজুড়ে চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করছে র্যাব। তালিকা প্রস্তুত শেষে এতে থাকা সব অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত শনিবার কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদাবাজদের একটি ‘আনবায়াসড’ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যারাই তালিকায় থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকলে কী হবেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। যে অপরাধী, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কত দিনের মধ্যে এই তালিকা সম্পন্ন হবে? এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে। আজও হতে পারে।
তিনি আরো জানান, চাঁদাবাজি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহন খাতে মহাসড়ক-কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি, সব ধরনের চাঁদাবাজিকে এই তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সর্বস্তরের অপরাধীকেই বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না। সেক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
কল্যাণপুরে একটি হাসপাতালের উদ্যোক্তার কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গেছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে। একই সঙ্গে র্যাবও ছায়াতদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক একটি বড় ইয়াবা চালান আটকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে যারা ধরা পড়ে তারা সাধারণত নি¤œস্তরের সদস্য।
তবে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হয়। এক দিনে সব হয় না, কিন্তু আমাদের চেষ্টা চলমান থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কোনো ধরনের চাপ আছে কি-না, এমন প্রশ্নে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে র্যাব স্বাধীনভাবেই কাজ করছে এবং কোনো ধরনের বেআইনি চাপ নেই। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।