ভোরের কুয়াশায় ঢাকা মাঠ, ঘাসে শিশিরবিন্দু—শীতের নিঃশব্দ ঘোষণা। শীতের সকাল মানেই খেজুরের রস, পিঠার গন্ধ আর সন্ধ্যায় আগুন পোহানো। দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় নরম উষ্ণতা মিললেও, এবার শীতের তীব্রতা অন্যবারের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। শুধু গ্রামে নয়, নগরবাসীর দিন কাটছে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আকাশ কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে, এবং ঠাণ্ডা বাতাসের রেশ যেন কাটছেই না।
পুরো জানুয়ারি জুড়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, এমনটাই জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক। তিনি বলেন, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ আরও ২-৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। মাসজুড়েই দেশে তীব্র শীত থাকতে পারে, আর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত বিশ বছর আগে দেশ এমন কুয়াশার ঘনত্ব দেখেছে। বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বায়ুতে ভেসে থাকা ধুলিকণার সংস্পর্শে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ জেবুন্নেছা জলি বলেন, বায়ুদূষণের কারণে বাতাসের ধূলিকণার সংস্পর্শে এসে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ছে। এদিকে, পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, এল নিনো ও লা নিলোর প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় বিস্তৃত পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে—তেঁতুলিয়ায় ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঢাকায় সর্বনিম্ন ১২.২ ডিগ্রি। পরিবেশবিদরা বলছেন, দেশ চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার দিকে এগোচ্ছে। এখনই সতর্ক না হলে, ষড়ঋতুর দেশে গরম ও বর্ষার ঋতুর স্বাভাবিকতা বিপন্ন হতে পারে।
শীতপ্রেমীরা শৈত্যপ্রবাহের এই তীব্রতা অনুভব করতে থাকলেও, বিশেষ সতর্কতা নেওয়া জরুরি, কারণ কুয়াশা ও তীব্র শীত স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।