দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকি জবাবহীন থাকবে না এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।
আজ বুধবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, ইরান কোনো ধরনের চাপ বা সামরিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হামলার জবাব দেবে।” একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, নিরাপদ থাকতে চাইলে তাদেরকে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে হবে। পারস্য উপসাগরের ইতিহাসে বহিরাগত সামরিক উপস্থিতির নেতিবাচক পরিণতির বহু উদাহরণ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় মার্কিন হামলা হয়েছে। কেশম দ্বীপ, জাস্ক এবং সিরিক এলাকায় এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক দিন আগে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ইরান ভূপাতিত করেছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
তবে ইরানের সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা কোনো মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় জড়িত নয়। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই আব্বাস আরাগচি আগেও বিদেশি বাহিনীকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের আকাশ, স্থল ও জলসীমা লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
তার মতে, এই অঞ্চলে অবস্থানরত বিদেশি সামরিক বাহিনী নিজেদের ভুল বা সংঘাতের ঝুঁকিতে ফেলছে। তাই উত্তেজনা কমাতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এই অঞ্চল থেকে তাদের দ্রুত সরে যাওয়া।
তথ্যসূত্র : প্রেস টিভি