মারিয়া শান্ত। ছবি: ফেসবুক
নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রী মারিয়া শান্ত। এখন ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা দুই জায়গাতেই আলোচনায়। এবারের ঈদে ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক, পাশাপাশি ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে নাটক ‘বোবা কান্না’। সিনেমা মুক্তি, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন
এবারের ঈদটা আপনার জন্য বিশেষ ছিল, কারণ ‘প্রেশার কুকার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে। অভিজ্ঞতা কেমন?
সত্যি বলতে, অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। প্রথম সিনেমা, তাই স্বাভাবিকভাবেই একটু নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম দর্শক সিনেমাটি গ্রহণ করছে এবং আমার চরিত্র নিয়েও কথা বলছে, তখন ভীষণ ভালো লেগেছে। মনে হয়েছে, আমার পরিশ্রমটা সার্থক হয়েছে। আর প্রথমবার দর্শকদের সঙ্গে সিনেমা দেখার আনন্দই ছিল আলাদা। তাদের সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানার সুযোগ হয়েছে। ট্রেলার দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন সিনেমায় হয়তো আমি কম সময়ের জন্য আছি। কিন্তু হলে এসে দর্শকের সে ভুল ভেঙেছে। নিজের অভিনীত চরিত্রটি নিয়েও আমি সন্তুষ্ট।
সিনেমায় যুক্ত হলেন কীভাবে?
সিনেমায় অভিনয় করার কথা তো কোনোদিনই ভাবিনি। তাই বড় পর্দার অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন লালন করেছি, এমন দাবিও করি না। হঠাৎ করেই রাফী ভাইয়ের কাছ থেকে [পরিচালক রায়হান রাফী] সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়া। ভীষণ পছন্দের একজন পরিচালকের কাছ থেকে আসা প্রস্তাব কোনোভাবেই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তা ছাড়া ‘প্রেশার কুকার’ গল্পটাও দারুণ, চরিত্রেও আছে গভীরতা। তাই সিনেমায় অভিনয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছি।
সিনেমায় আপনার চরিত্র ‘অনন্যা’ নিয়ে অনেক প্রশংসা হচ্ছে। চরিত্রটি নিয়ে আপনি কী বলবেন?
অনন্যা চরিত্রটি আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এখানে আমি অভিনয় করেছি ষোড়শী বালিকার চরিত্রে। মেয়েটি পড়াশোনা করতে পছন্দ করে না। প্রেমই তার পছন্দের। এই চরিত্রে অনেক স্তর আছে। ইমোশন, দ্বন্দ্ব, শক্ত অবস্থান–সবকিছু মিলিয়ে কাজটা সহজ ছিল না। চরিত্রটি আমার বিপরীত। অনন্যা চরিত্রটি আমাকে নতুনভাবে গড়েছে। আমি চেষ্টা করেছি চরিত্রটাকে বাস্তবে তুলে ধরতে। দর্শক যদি মনে করেন আমি সেটা পেরেছি, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ঈদে ‘বোবা কান্না’ নাটকটিও ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে। এই কাজটি নিয়ে কিছু বলুন।
‘বোবা কান্না’ খুব সংবেদনশীল একটি গল্প। এখানে আবেগটাই প্রধান। এমন কিছু অনুভূতি আছে, যেগুলো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, সেটাই দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের কাজ করতে আমি সব সময় আগ্রহী, কারণ এগুলো আমাকে অভিনেত্রী হিসেবে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। নির্মাতা সুব্রত সঞ্জিত কাজটি বেশ যত্ন নিয়ে করেছেন। সহশিল্পী মুমফিক আর ফারহানের সঙ্গে আমার পর্দা রসায়ন দর্শক বেশ গ্রহণ করেছেন। নাটকটি প্রকাশের এক দিনেই এক মিলিয়ন দর্শক কাজটি দেখেছেন।
গল্প ও চরিত্র নির্বাচনের আগে আপনার ভাবনা কী থাকে?
অভিনয়ের বিষয়ে ভালো গল্প ও চরিত্র ছাড়া আমার আসলে চাওয়ার বেশি কিছু নেই। যে গল্প মানুষকে কিছুটা হলেও ভাবাবে, চরিত্রগুলোয় পাওয়া যাবে চেনা মানুষের ছায়া এটাই চাই।
আপনি ধীরে ধীরে কাজ করার কথা বলেন এবং কাজের সংখ্যা কমিয়েছেন। এর কারণ কী?
আমি সব সময় বিশ্বাস করি, বেশি কাজ করার চেয়ে ভালো কাজ করা জরুরি। ক্যারিয়ারের শুরুতে হয়তো অনেকেই পরিচিতি পাওয়ার জন্য বেশি কাজ করেন, কিন্তু আমি চাই দর্শক আমাকে আমার অভিনয়ের জন্য মনে রাখুক। তাই আমি বেছে কাজ করছি। এতে সময় বেশি লাগলেও আমি তাড়াহুড়া করতে চাই না।
ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় আসা– এই পরিবর্তনটা কতটা কঠিন ছিল?
দুই জায়গার কাজের ধরন আলাদা। সিনেমায় কাজ করার সময় অনেক বেশি প্রস্তুতি নিতে হয়। প্রতিটি দৃশ্য, প্রতিটি অভিব্যক্তি নিয়ে বেশি ভাবতে হয়। তবে ছোট পর্দার অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমি এখনও শিখছি, এবং শেখার অনেক বাকি।
আপনার অভিনয়ের অনুপ্রেরণা কারা?
অনেকেই আছেন, যাদের কাজ দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই। বিশেষ করে হলিউড অভিনেত্রী মনিকা বেলুচ্চির অভিনয় আমাকে খুব টানে। দেশের মধ্যে জয়া আপুর অভিনয় ভালো লাগে। এ ছাড়াও অনেক সিনিয়র শিল্পী আছেন, যাদের কাজ আমি অনুসরণ করার চেষ্টা করি। তবে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পাই যখন দর্শক আমার কাজের প্রশংসা করেন।
আপনাকে এখনও নির্দিষ্ট কোনো জুটিতে দেখা যায়নি। এটা কি সচেতন সিদ্ধান্ত?
হ্যাঁ, বলা যায়। আমি এখনও নিজেকে গড়ে তোলার পর্যায়ে আছি। যদি শুরুতেই নির্দিষ্ট জুটিতে কাজ করতে থাকি, তাহলে অন্য অনেক শিল্পীর সঙ্গে কাজের সুযোগ কমে যাবে। আমি চাই বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কাজ করে শিখতে। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা সময়ই বলবে।
ব্যক্তিগতভাবে আপনার কোনো স্বপ্ন বা লক্ষ্য আছে?
অবশ্যই আছে। আমি চাই একজন ভালো অভিনেত্রী হতে। শুধু জনপ্রিয়তা নয়, অভিনয়ের জন্য মানুষ আমাকে চিনুক। আর একটা ইচ্ছে আছে, অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য বিদেশে যাওয়ার। পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু করতে চাই, বিশেষ করে যারা রাস্তায় কষ্ট করে জীবনযাপন করেন, তাদের জন্য কিছু করার স্বপ্ন আছে।
আপনার কাছে সফলতা কী?
আমার কাছে সফলতা মানে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করা। যদি আমি প্রতিটি কাজে আগের চেয়ে একটু ভালো করতে পারি, সেটাই সফলতা। আর যখন দর্শক বলবেন, ‘তোমাকে আরও ভালো কাজ করতে দেখতে চাই’– সেটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।