

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ সম্প্রতি দাবি করেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে নিহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন। তবে এই ঘটনার সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার-এর এক্সপোস্টকে সূত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় তার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন ইতামার বেন-গিভর, যিনি আহত হয়েছেন।” তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে এই পোস্ট করা হয়েছে, সেটি সত্যিই স্কট রিটার ব্যবহার করছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ফার্সি ভাষার তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর উপর হামলার কোনো দৃঢ় প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এর পরিবর্তে পরিস্থিতিগত কয়েকটি বিষয় একত্রিত করে সংবাদটি তৈরি করা হয়েছে। যেমন, নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও ক্লিপের অনুপস্থিতি, ইসরায়েলি মিডিয়ায় তার বাড়ির চারপাশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার-এর সফর স্থগিত হওয়া, এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপের রেকর্ডে তারিখ নির্দিষ্ট না থাকা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এ ব্যাপারে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর সর্বশেষ প্রকাশ্য বিবৃতি ছিল ৭ মার্চ, যখন তিনি ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহতদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমে নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার খবর নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে ২ মার্চও কয়েকটি ইরানি সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়েছে এবং নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন। তবে পরে চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই দাবিকে ‘গুজব’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর জীবিত থাকা এবং দপ্তরের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তথ্যসূত্র : জেরুজালেম পোস্ট
আপনার মতামত লিখুন :