পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর উত্তরায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেলে উত্তরা আব্দুল্লাহপুর সংলগ্ন পলওয়েট মার্কেটের সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম, খুন ও দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে ৫ই আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে এবং শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ফিলিপাইনের মার্কোস কিংবা ইরানের শাহর মতো জনবিচ্ছিন্ন কোনো স্বৈরাচারই গণ-অভ্যুত্থানের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি।
রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উসকানি মূলক বক্তব্য ও আসফালনের মধ্যে আওয়ামী ফ্যাসিবাদেরই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। অগণতান্ত্রিক উপায়ে বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোনো কিছু অর্জনের চেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব অপতৎপরতার মধ্যে সহাবস্থান ও শান্তির কোনো বার্তা নেই।
জ্বালানি সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারের বৈশ্বিক সংকট, মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মহেশখালী টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশীয় জ্বালানি ও বিদ্যুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। লিটারপ্রতি ২০৫ টাকায় ডিজেল কিনে সরকারকে সস্তায় বিক্রি করতে হতো, যার ফলে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুণতে হচ্ছিল এবং সস্তার এই ডিজেল ভারতে চোরাচালান হচ্ছিল। জাতীয় এ সংকটের মধ্যেও বিরোধীরা ঢাকা থেকে ১,০০০ গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চের নামে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল ও ডিজেল অপচয় করেছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির মধ্যেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় 'ফ্যামিলি কার্ড', 'কৃষক কার্ড' এবং মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, উত্তরা, কাফরুল ও শাহবাগে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, অরাজকতা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং বিগত রাতেই শহরজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৪৭২ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি স্পষ্ট জানান, বিএনপির মূল শক্তি বন্দুক, ককটেল বা রিভলবার নয়; দেশের সাধারণ জনগণই দলের মূল চালিকাশক্তি। ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। সমাবেশ শেষে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল উত্তরা বিমানবন্দর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।