ছবি-সংগৃহীত
ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে ইরানের ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা উদ্ধার করতে পারেনি বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)। বরং এই উদ্ধার মিশনে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকটি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানি বাহিনী। রবিবার আইআরজিসি’র জনসংযোগ বিভাগ এই দাবি করে।
বিবৃতিতে তারা জানায়, “ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মরিয়া প্রচেষ্টা এবং দেশের মধ্যাঞ্চলে বিমান প্রবেশের পর সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি যৌথ অভিযানে (যেখানে অ্যারোস্পেস, স্থলবাহিনী, সরকারি, বাসিজ এবং পুলিশ ইউনিট জড়িত ছিল) যুক্তরাষ্ট্র আবারও এক অপমানজনক পরাজয় বরণ করেছে।”
অন্য এক পাইলটকে উদ্ধারের একদিন পর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি অভিযানে ওই পাইলটকে উদ্ধার করেছে। এরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতরের মুখপাত্র বলেছেন, “আল্লাহর রহমতে, ঐশ্বরিক দক্ষতায়, সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং আইআরজিসি, সেনাবাহিনী, বাসিজ ও পুলিশের যোদ্ধাদের যৌথ অভিযানের ফলে ভূপাতিত বিমানের পাইলটকে উদ্ধারের জন্য শত্রুপক্ষের মরিয়া প্রচেষ্টা ‘ব্যর্থ’ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এ সময় দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং একটি সি-১৩০ বিমানসহ শত্রুর বিমানগুলো আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে।”
এছাড়াও রবিবার ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে পরিচালিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসফাহান প্রদেশের আকাশে একটি এমকিউ-৯ এবং একটি হারমার্স-৯০০ সহ দুটি অনুপ্রবেশকারী ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, বিমান হামলার মাধ্যমে, যেখানে ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কমান্ডারদের হত্যা করা হয়।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান এবং সেইসাথে এই অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে প্রায় প্রতিদিন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
তারা বেশ কয়েকটি শত্রু যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনও ভূপাতিত করেছে, যা নিজেদের আকাশসীমা রক্ষায় ইরানের প্রস্তুতিরই প্রতিফলন।
সূত্র: প্রেসটিভি