ভবিষ্যতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেকোনো ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপের’ জবাব অত্যন্ত বিস্তৃত, বিপজ্জনক ও বেদনাদায়ক হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রোববার (১০ মে) রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদরদপ্তর জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (জিএইচকিউ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিম মুনির বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার প্রভাব সীমিত থাকবে না; বরং তা হবে সুদূরপ্রসারী, ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক।
গত বছরের সংঘাতকে পাকিস্তান সরকার ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে সেনাপ্রধান দাবি করেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছিল। তবে পাকিস্তান জাতীয় ঐক্য ও সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মারকা-ই-হক’ শুধু দুই দেশের বা দুই সেনাবাহিনীর প্রচলিত যুদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল দুটি মতাদর্শের মধ্যে নির্ধারক লড়াই, যেখানে সত্যের জয় এবং মিথ্যার পরাজয় হয়েছে।
ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসিম মুনির বলেন, ২০০১, ২০০৮, ২০১৬ ও ২০১৯ সালেও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবৈধ চাপ ও সংঘাত সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে প্রতিবারই পাকিস্তান ভারতের কৌশল ব্যর্থ করে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বলেন, ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার কৌশল উন্মোচন করেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারত সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে পাকিস্তানকে দুর্বল করে আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। তবে বাস্তবে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাদের সক্ষমতা ও বাস্তব অবস্থানের তুলনায় অনেক বড় প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আসিম মুনির বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী কখনো শক্তির আধিপত্যে ভীত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
অনুষ্ঠানে তিনি ‘মারকা-ই-হক’-এ নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ভারতীয় হামলায় নিহত নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদেরও স্মরণ করেন।
তথ্যসূত্র: দ্য ডন