পাহাড়-সমতল-সমুদ্র প্রতিটি পর্যটন স্পট মুখরিত! ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা দেশ!


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩, ২০২৫, ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ /
পাহাড়-সমতল-সমুদ্র প্রতিটি পর্যটন স্পট মুখরিত! ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা দেশ!

সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হয়েছে ঈদুল ফিতর। এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে খুশির ঈদ। ঈদ আনন্দের দিন হলেও বিগত বছরগুলোতে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালনে ছিল নানা ভয়, শঙ্কা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্ক। বহু মানুষ ছিলেন কারাগারে। এবার ভীতি আতঙ্ক ছিল না। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সব শ্রেণির মানুষ পুরোপুরি উৎসবের আমেজে ঈদ উদযাপন করছেন।

দেড় যুগ পর ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে পড়ে মানুষ। ঈদের খুশি এখনো চলছে। ঈদের দিন রাজধানী ঢাকায় রাষ্ট্রীয় ভাবে ঈদ আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়। দলমত নির্বিশেষ সব বয়সে নারী-শিশু-পুরুষ সে আনন্দ মিছিলে অংশ নেয়। রাজধানী ঢাকার চিড়িয়াখানায় ঈদের দিনই দুই লাখ মানুষ টিকেট কেটে পরিভ্রমণ করে। ঈদের দেশের প্রতিটি পর্যটন স্পট হাজারো মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে। ঈদের নামাজ পড়ে মুসল্লিরা একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করে। এবারের ঈদ সত্যিই ৯২ ভাগ মুসলমানের ঘরে ঘরে অনাবিল আনন্দ বয়ে এনেছে।

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজ আদায় শেষে মুসুল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সেই ঐক্য অটুট রাখতে হবে। আগামীতেও আমরা ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যাব।’ জুলাইয়ের যোদ্ধাদের স্মরণ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি পর্যায়ে গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করতে হবে। আহতদের রোগ মুক্তির জন্য প্রার্থনা করতে হবে। আগামীতে আমরা ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে এগিয়ে যাব। জুলাইয়ের যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব।’

সারাদেশের পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় জমে ঈদের দিন নামাজের পর থেকেই আনন্দ উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন পাহাড় আর সমুদ্রসৈকতে। পর্যটকের আনাগোনায় পর্যটন কেন্দ্রের এলাকা মুখর হয়ে উঠেছে। শ্রীমঙ্গল, বান্দরবান, রাজশাহী, পটুুয়াখালী, টাঙ্গাইল, শেরপুর, আশুলিয়ার দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় করছেন সৌন্দর্য পিপাসুরা। ফলে হোটেল-মোটেল রিসোর্টগুলোও কানায় কানায় পরিপূর্ণ। দীর্ঘদিন পর আশানুরূপ পর্যটক আসায় খুশি পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যের প্রতিবেদনে ছিল এ চিত্র-

লোকারণ্য রাজধানীর পর্যটন কেন্দ্র :  রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ঈদের আমেজ ছিল ভিন্ন রকম। নগরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো ছিল মানুষে পরিপূর্ণ, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকে লম্বা লাইন। পরিবার-পরিজন নিয়ে কোলাহল মুক্ত শান্ত পরিবেশে সময় কাটাচ্ছে নগরবাসি। বিভিন্ন স্থানে চলছে ঈদ মেলা, মেলায় থাকছে বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপকরণ। নাগরদোলা, ইলেক্ট্রিক নৌকা, শিশুদের জন্য জামপিং প্লেস ও ট্রেন। এসবে ভিড় করছেন নগরের মানুষ। ইট-পাথর আর কংক্রিটের এ শহরে বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার জায়গা অনেক কম। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে কিছুটা স্বস্তি পেতে সবসময় উপলক্ষ্য খুঁজে বেড়ায় নগরবাসী।

ঈদের তৃতীয় দিনে লোকে লোকারণ্য রাজধানীর এসব পর্যটন কেন্দ্র ও পার্ক। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ ঘুরতে বেড়িয়েছেন। সকাল থেকে মানুষের আগমন থাকলেও বিকেলের দিকে এসব স্থান লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। ঈদের দিন রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কম থাকায় স্বস্তি পাচ্ছে নগরবাসি। বিকেল থেকে রাজধানীর রমনা পার্ক, হাতিরঝিল, বলধা গার্ডেন, চন্দ্রিমা বা জিয়া উদ্যান, লালবাগ কেল্লা, জাতীয় জাদুঘরসহ বিনোদন কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের ভিড় দেখা যায়। রমনা পার্কে আগতদের মধ্যে পরিবারসহ আসা মানুষের ভিড় ছিল বেশি। বিশেষ করে পার্কটির মধ্যে শিশুদের জন্য রাখা বিনামূল্যে বিভিন্ন রাইডের জায়গায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এখানে সবচেয়ে ভালো দিক হলো বাচ্চারা বিনামূল্যে রাইডগুলো ব্যবহার করতে পারে। তাই বাবা-মা তাদের সন্তানকে নিয়ে এখানে বেশি ভিড় করছেন।

খোলামেলা পরিবেশ, বাচ্চাদের রাইড, পানির ওপরে ভ্রাম্যমাণ ব্রিজ সবকিছুর পাশাপাশি এখানকার লেকে নৌকা ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। প্রতি আধা ঘণ্টা সুসজ্জিত সিঙ্গেল নৌকায় ঘুরতে খরচ করতে হচ্ছে ৩০০ টাকা। এই নৌকায় ঘুরতেও মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। রমনা পার্কের ভেতর খেলনা বিক্রি করা ভ্রাম্যমাণ হকার খোরশেদ আলম বলেন, ঈদের পরদিন থেকে রমনা পার্কে মানুষের ঢল নেমেছে। আজও ঈদের তৃতীয় দিনে মানুষে ভরে গেছে। পরিবার-প্রিয়জন নিয়ে অনেকেই হাতিরঝিল-বলধা গার্ডেনসহ রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক ও মিউজিয়ামে সময় কাটিয়েছেন। বিকেল থেকে স্ত্রী, সন্তান, মা, বাবা, ভাই-বোন ও নিকট আত্মীয় নিয়ে বলধা গার্ডেনে ঘুরতে এসেছেন অনেকে। এদিকে হাতিরঝিলে ভ্রমণপ্রিয় মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ঈদের তৃতীয় দিন দর্শনার্থীদের জন্য খোলা আছে বিজ্ঞান ও শিক্ষামূলক বিনোদন কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার।

কক্সবাজারঃ পর্যটন শহর কক্সবাজারে ঢল নেমেছে পর্যটকের। ঈদে লম্বা ছুটি পেয়েছে ভ্রমণপিপাসুরা। এই সুযোগে লাখ লাখ ভ্রমণপিপাসু মানুষ এখন কক্সবাজারে ভিড় করছেন। পর্যটকদের এই আগমনে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলো নতুন উদ্যমে সেবা প্রদান করছে। হোটেল-মোটেল মালিকদের মতে, ২ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১০০ ভাগ কক্ষ আগেই বুকড হয়ে গেছে। এখন যারা আসছেন তারা কোন রুম পাচ্ছেন না। শহর ও মেরিন ড্রাইভ এলাকার পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস ও রিসোর্টে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এখন যারা আসছেন তাদেরকে গাড়িতে, রাস্তায় অথবা বাসাবাড়িতে রাত সাপন করতে হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের একসাথে কক্সবাজার সফর কক্সবাজারের পর্যটনকে বহুদূর এগিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রেকর্ড পরিমান দেশি বিদেশি পর্যটকরা কক্সবাজার আসতে শুরু করেছেন। রমজানেও বিভিন্ন হোটেলে পর্যটকের সংখ্যা কমছিলনা। ঈদের ছুটিতে কোথাও রুম কালি নেই।

হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, তাদের জানামতে এ পর্যন্ত হোটেল-মোটেল এবং রিসোর্টে ১০০ ভাগ বুকিং হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বিষয়ে তারা কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরকম কোন অভিযোগ অথবা প্রমান পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন আশা করেন, কক্সবাজারের শান্ত আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নত যোগায়োগ ব্যবস্থার কারণে ভ্রমণকারীরা নির্বিঘ্নে কক্সবাজার ভ্রমণ করবেন।

শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজারঃ চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে দর্শনার্থীদেও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ থাকায় এবারের ঈদে রেকর্ড সংখ্যক ভ্রমণপ্রেমী মানুষ শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ করছেন। শ্রীমঙ্গলের সবুজের সমারোহে সজ্জিত সারি সারি চা-বাগানের নয়নাভিরাম প্রকৃতি দেশের পর্যটকদের সব সময়ই আকর্ষণ করে। চা বাগানের পাশাপাশি দার্জিলিং টিলা, চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), টি মিউজিয়াম, বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হাইল হাওর, মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল, নীলকণ্ঠ সাত রঙের চা কেবিন, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি-৭১, লাল পাহাড়, শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, ব্রিটিশদের সমাধিস্থল ডিনস্টন ওয়ার সিমেট্রি, হরিণছড়া গলফ মাঠ, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী পল্লিগুলো পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। শ্রীমঙ্গলের পাশ্ববর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, নুরজাহান চা বাগান পর্যটকদের বিমোহিত করে। উপজেলার বেশীর ভাগ হোটেল, রিসোর্ট, গেষ্ট হাউস বুকিং হওয়ার কথা জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোন এর পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, এবার ঈদের ছুটি বেশ লম্বা থাকায় প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সাথে সভা করেছি। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে নজরদারি রাখছি। পর্যটকরা যেন নির্বিঘেœ ঘোরাফের করে সুন্দরভাবেই বাড়ি ফিরতে পারে আমরা সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি।

বান্দরবানঃ টানা ছুটিতে পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশ দেখতে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের ঢল নেমেছে বান্দরবানে। রমজানের কারণে দীর্ঘদিন পর্যটনকেন্দ্রগুলো ফাঁকা থাকলে ও এখন পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে বান্দরবানের সকল পর্যটনকেন্দ্রে। হোটেল-মোটেল আর রির্সোটগুলোতে পর্যটকদের সমাগম বেড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোর ব্যাপক ব্যস্ততা। এসব স্পট এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত।

ঢাকা থেকে বান্দরবানের মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে আসা পর্যটক মো. নাজিম জানান, বান্দরবান খুবই সুন্দর জেলা আর ছুটি পেলেই আমি পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে ঘুরতে চলে আসি। নীলাচল পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে যাওয়া পর্যটক মো. জসিম উদ্দিন জানান, পাহাড় প্রকৃতি আর মেঘের অপরূপ জেলা বান্দরবান। বাংলাদেশে যে কয়েকটি পর্যটন এলাকা রয়েছে তার মধ্যে বান্দরবান অন্যতম। বান্দরবানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস আর তার সঙ্গে প্রকৃতির রূপ যে কাউকে সহজেই মুগ্ধ করে। এদিকে পর্যটকরা যেন নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে বান্দরবান প্রশাসন। জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, বান্দরবান একটি পর্যটন জেলা। আর এই জেলাতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে নিরাপত্তার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা ও নিয়মিত নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন।

রাজশাহীঃ রাজশাহীতে ঈদের পরের দিন থেকে বিনোদন পিপাসুরা দল ছুটে বেরিয়েছে বিনোদনের স্পটগুলোয়। এখন এ অঞ্চলের একেবারে পল্লীতে গড়ে উঠেছে শিশুপার্ক, পিকনিক স্পট। কোন কোন উপজেলায় তিন চারটি পর্যন্ত স্পট রয়েছে এসব স্থানে অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে। অনেকে বিভিন্ন যানবাহনে শহর দেখতে এসেছে। ভিড় জমিয়েছে বিনোদনের স্থান গুলোয়। রমজানের কারণে এসব স্থানে মানুষের আনাগোনা ছিলনা। ফলে এসব স্থান কেন্দ্রীক বাদাম চানাচুর ফুচকা চটপটি পেয়ারা ফেরি করা বিক্রেতার অলস দিন পার করেছে। এখন মানুষ আসতে থাকায় স্পটগুলো যেমন প্রান ফিরেছে তেমনি তাদের জীবন চাকা তেমন সচল হয়েছে। ওরা ভীষণ খুশী।

কলাপাড়া, পটুুয়াখালীঃ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সরকারি টানা নয় দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে ঈদ উৎসব উদযাপনে এ সকল পর্যটকের আগমন ঘটে। আগত পর্যটকরা সৈকতের বালিয়াড়ীতে হইহুল্লোরে মেতেছেন। অনেকে সমুদ্রের তীরে আছড়ে পরা ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালীতে মেতেছেন। কেউবা আবার বালু খেলায় মেতেছেন। এদিকে গঙ্গামতি ও লেম্বুরবন সহ সকল স্পটে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি রয়েছে। বাড়তি পর্যটকদের উপস্থিতিতে বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বুকিং রয়েছে শতভাগ হোটেল মোটেল। আগতদের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে পুলিশ সদস্যরা।

সিলেট থেকে আসা পর্যটক মো. মিজানুর রহমান জানান, আমি পরিবারবর্গ সহ আর কুয়াকাটায় আরো এসেছি তবে এবার এসে ভালোই লাগল। এখানকার পরিবেশ, লোকজনের আতিথিয়তায় আমরা মুগ্ধ এবং প্রচুর পর্যটক। পদ্মা সেতুর সুফল উপভোগকরছি আমরা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা তবে ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত এই মহাসড়কটি ফোরলেন হলে আরো অনেক পর্যটক বাড়বে।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল অউনার এসোসিয়েশন সভাপতি মো. মোতাবেক শরীফ জানান, পর্যটক বেড়েছে, আগামীতে আরো পর্যটক আসবে। আমাদের সকল হোটেল অগ্রীম বুকিং রয়েছে। প্রায় হোটেলের ৯০% রুম বুকিং রয়েছে। পর্যটকে নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসন সহ আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত। পর্যটকের আগমনে পর্যটনের সকল ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি দেখা যাচ্ছে। সরকারি ৯ দিনের লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে ১০ লক্ষাধীক পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে তিনি আসা করেন।

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন তপু জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা সার্বিক ব্যবস্থা নিয়েছি। বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ট্যুরিস্ট পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা দ্বারা মনিটরিং করা হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, এ বছর লম্বা ছুটির কারণে ব্যাপক পর্যটকের আগমনে আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করেছি। মহিপুর থানা পুলিশ, কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ, ও কুয়াকাটা পৌর সভার পক্ষ থেকে পর্যটকদের সেবায় সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রয়েছে। ভাল পর্যটক আসছে, আরো আসবে। সরকারি লম্বা ছুটির কারণে বছর এবছর কুয়াকাটায় পর্যটকের মিলনমেলা হবে বলে মনে করেন তিনি।
রাউফুর রহমান পরাগ, আশুলিয়া (ঢাকা) থেকে জানান, আশুলিয়ার বিনোদন কেন্দ্রগুলো ঈদের আনন্দকে বহুগুণ রাঙিয়ে তুলতে বর্ণাঢ্য সাজে সেজেছে বিনোদন কেন্দ্রগুলো। পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষ্যে এসব পার্কগুলোতে স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন অফার প্যাকেজ থাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচে পরা ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ফ্যান্টাসি কিংডম থীম পার্কে গিয়ে চোখে পরে হাজারো দর্শনার্থীদের সমাগম। বিশ্বমানের আদলে গড়া উত্তেজনাকর বেশ কিছু রাইড নিয়ে সাজানো পার্কটি বিনোদন পিপাসু যেকোনো বয়সী মানুষের জন্য আলাদা আনন্দের। এখানে আসা নানা বয়সী বিনোদন প্রেমীরা উৎসবে মেতে উঠেছে তাদের ঈদ আনন্দে।

কেউ চড়েছে রোমাঞ্চকর রোলার কোস্টারে, কেউ ম্যাজিক কার্পেটে আর বাচ্চারা চালাচ্ছে রেসিংকার আবার অনেকে উঠেছে ট্রেনে। তবে তরুণদের মূল আকর্ষণ ওয়াটার কিংডমে। সেখানে তারা ডিজে গানের তালে নীল জলের কৃত্রিম ঢেউয়ের সঙ্গে গা ভাসিয়েছেন। আবার কৃত্রিম পাহাড়ের ঝড়নায় পানিতে আনন্দে মেতেছেন জুটি বেঁধে আসা তরুণ- তরুণীরা। এসময় প্রিয়জনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি আর স্মৃতির মুহূর্তগুলো মুঠোফোনে ধরে রাখতে ব্যস্ত দর্শনার্থীরা। এদিকে নন্দন পার্কেও একই চিত্র চোখে পড়ে। হাজার হাজার মানুষের সমাগমে মুখরিত আশুলিয়ার এই সকল বিনোদন কেন্দ্র গুলো। এছাড়াও সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে দেখা যায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিনোদন প্রেমিরা ছুটে আসছেন এখানে। তবে সব কয়টা বিনোদন কেন্দ্রতেই রাখা হয়ে বাড়তি নিরাপত্তা। বিনোদন কেন্দ্রগুলোর পক্ষ থেকেই দেওয়া হচ্ছে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

টাঙ্গাইলঃ আবহমান গ্রাম-বাংলা থেকে হারাতে বসেছে শৈশবের চিরচেনা ঘুড়ি উড়ানো উৎসব। আর সেই হারানো ঐতিহ্যকে ফেরাতে ও বর্তমান প্রজন্মের সামনে ঘুড়ি উড়ানোর উৎসবকে তুলে ধরতে ‘এসো উড়াই ঘুড়ি, বাংলার ঐতিহ্য লালন করি’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার নলিন বাজারের পাশে যমুনার ধূ-ধূ বালুচরে মুক্তিযোদ্ধা নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এবং স্থানীয় সেচ্ছাসেবী আমরা গোপালপুরবাসী ফেসবুক গ্রুপ ও শুভশক্তি বাংলাদেশের সহযোগিতায় ঘুড়ি উৎসব পালন করা হয়।

শেরপুরঃ শেরপুর গারো পাহাড়ে পর্যটন কেন্দ্র গুলোয় দর্শনার্থী খরার ১ মাস পর ঈদের দিন থেকে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ঢল নামছে অবকাশ পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রসহ অপরাপর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। ফলে পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। বাংলাদেশ- ভারত সীমান্তের পাহাড়ের লুকোচুরি দেখতে সারা বছরই দর্শনার্থীর আসেন গারো পাহাড়ে। ঈদে দিন থেকে নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে গজনী অবকাশ পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রসহ ও মধুটিলা ইকোপার্কে সারা দেশ থেকে ছুটে আসছে দর্শনার্থী। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, গজনী অবকাশ পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রের দৃষ্টিনন্দন ভাসমান সেতু, ওয়াটার পার্ক, ওয়াটার কিংডম ও প্যারাডোবা, ঝুলন্ত ব্রিজ, রুফওয়ে, জিপলাইনার, ক্যাবলকার, প্যাডেল বোর্ড, সাম্পান নৌকা, ঝর্ণাধারাসহ আকর্ষণীয় রাইডসগুলো মন কাড়ছে ভ্রমণ পিপাসুদের।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর থেকে আসা ফারজানা আক্তার বলেন, ঈদে বাবা-মার সঙ্গে ঘুরতে এসেছি। অনেক লোকজন হয়েছে। পেডেল বোর্ডে ওঠলাম অনেক মজা করলাম। জামালপুর থেকে আসা নীরব মিয়া বলেন, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বন্ধুদের সঙ্গে কলেজ থেকে ঘুরতে এসেছি। নতুন নতুন অনেক রাইডসে উঠলাম। অনেক কিছু কেনা-কাটাও করলাম। দারুণ লেগেছে শেরপুরের গারো পাহাড়। পর্যটন কেন্দ্রের ইজারাদার ও ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ফরিদ আহম্মেদ জানান, শীতে মোটামুটি ব্যবসা হয়েছে। কিন্তু রোজা এসে পড়ায় আবার একমাস বন্ধ ছিল। এখন ঈদের দিন থেকেই পর্যটন আসা শুরু হয়েছে। যদি মাসজুড়ে এমন লোকজন আসে তবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব এবং ভাল লাভবান হবো। এবার ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় আমদের জন্য ভালোই হয়েছে।