যশোর সদর উপজেলার প্রগতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃ,পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এখন দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গেছে। এক পক্ষের সমর্থনে গত বুধবার দুই শতাধিক শিক্ষার্থী স্কুল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও মিছিল করে। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেয়। কিন্তু তালা ভেঙে এক পক্ষের শিক্ষার্থীরা আবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সেলিমুল ইসলাম রাজু। তার মেয়াদে তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষক আশরাফ হোসেনকে নিয়োগ দেন। ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি পরিবর্তনের ফলে ম্যানেজিং কমিটির নতুন সভাপতি হন বিএনপি সমর্থিত শহিদুল ইসলাম সুমন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আশরাফ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সম্প্রতি স্কুল পরিচালনা কমিটির এক সভায় খণ্ডকালীন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল নিয়ে আলোচনা হয়।
স্কুলের একটি সূত্র জানায়, আশরাফ হোসেনকে চাকরিচ্যুত করার খবর ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ একত্রিত হয়। তার পক্ষ নিয়ে বুধবার স্কুলে মিছিল ও বিক্ষোভ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসলে ওই শিক্ষার্থীরাও জড়ো হতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে ছুটি ঘোষণা করে স্কুলে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং আশরাফ হোসেনের পক্ষে স্লোগান দেয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং তাদের মিছিলে নামানো হচ্ছে, যা অনুচিত। কেউ কেউ বলেন, এক সময় এই স্কুলে পড়ালেখার মান ভালো ছিল, কিন্তু এখন তা কোচিং নির্ভর হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের কোচিং এ যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। ওই কোচিং করাচ্ছেন আশরাফ হোসেনসহ আরও কয়েকজন। আবার কেউ কেউ বলেন, আশরাফ অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন, তাই শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় মাঠে নেমেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, স্যারের কোচিং না করলে এক পক্ষের কাছে খারাপ হতে হয়, আবার কোচিং করলে অন্য পক্ষের রোষানলে পড়তে হয়। আমরা এখন উভয় সংকটে আছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খণ্ডকালীন শিক্ষক আশরাফ হোসেন বলেন, আমি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে যোগদান করি। এরপর থেকেই স্কুলের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। গত ২২ আগস্ট জানতে পারি, আমার চাকরি আর থাকছে না। আমাকে পদত্যাগপত্র দিতে বলা হয়। ২৭ আগস্ট স্কুলে গিয়ে অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলে বিদায় নেই, তবে আমি পদত্যাগ করিনি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ভালোবেসে আমাকে বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
কোচিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার কোচিং তিন বছর ধরে চলছে। কাউকে জোর করে ভর্তি করানো হয় না। আমার জনপ্রিয়তা দেখে একটি পক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে ষড়যন্ত্র করছে। স্কুলের বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, সাবেক সভাপতি প্রয়োজন ছাড়াই নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা অযাচিত খরচ কমানোর কাজ করছি। এখনো আশরাফের চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু তিনি নিজের কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে একের পর এক প্রতিবাদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার স্কুল বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আশরাফ হোসেনকে স্কুলকে পুঁজি করে কোচিং ব্যবসা করছেন। সেটা রুখতেই তিনি এইসব করছেন।
প্রধান শিক্ষক রাধাকান্ত বিশ্বাস বলেন, আশরাফ হোসেন একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক। ইতিমধ্যে এনটিআরসিএ থেকে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে খণ্ডকালীন শিক্ষকের আর প্রয়োজন নেই। বর্তমান কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তাকে রাখা হবে। বিষয়টি জেনে আশরাফ স্কুলে আসা বন্ধ করে দেন। কিন্তু ২৭ আগস্ট তিনি হঠাৎ স্কুলে এসে অ্যাসেম্বলিতে বক্তব্য দেন এবং চলে যান। পরে শিক্ষার্থীরা সভাপতির পদত্যাগ ও আশরাফ হোসেনের পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা। যা আগে কখনো এই প্রতিষ্ঠানে হয়নি।