ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু। ছবি: এএফপি
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘিরে একের পর এক আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় শুরু হয়েছে ফৌজদারি তদন্ত। কর্মপরিবেশে মানসিক নির্যাতন ও বুলিংয়ের অভিযোগে প্যারিস পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস তদন্ত শুরু করেছে।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ সার্ভিসেস অব দ্য প্রাইম মিনিস্টার দপ্তরগুলোতে দুই কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন, দুজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এবং একজনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, মানসিক নিপীড়নের অভিযোগে তদন্ত চলছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী ও ৫০টি বিভাগ নিয়ে গঠিত এই প্রশাসনিক কাঠামো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করে। তবে ভুক্তভোগীদের কেউ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কার্যালয়ের কর্মী ছিলেন না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে লরা নামের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এক পথচারীর দ্রুত পদক্ষেপে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। পরে তিনি কর্মস্থলে মানসিক নির্যাতন ও জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, লরাকে কর্মস্থলে একঘরে করে রাখা হয়েছিল, সভায় ডাকা হতো না এবং সাংগঠনিক তালিকা থেকেও তাঁর নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে এক নারী কর্মকর্তা অফিসেই ছুরি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। চলতি বছরের মার্চে এক প্রকল্প ব্যবস্থাপক নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। একই মাসে ৫৯ বছর বয়সী আরেক কর্মকর্তা ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ দেন। এ ছাড়া এপ্রিলে এক তরুণ কর্মকর্তার মরদেহ সরকারি অফিসের শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর আমলে ঘন ঘন রাজনৈতিক পরিবর্তন, নতুন প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং দপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা কর্মীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করেছে।
তবে প্রশাসনিক ও আর্থিক সেবা অধিদপ্তর কিছু অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, লরা নিজেও একজন কর্মীকে হয়রানির অভিযোগে শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়ার মুখে ছিলেন। পাশাপাশি গত অক্টোবরের আত্মহত্যার চেষ্টাকে চিকিৎসা কমিটি কর্মক্ষেত্রজনিত ঘটনা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। দুটি আত্মহত্যার ঘটনায় পৃথক অভ্যন্তরীণ তদন্তও চলছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ