মুঠোফোনের সিম প্রতীকী ছবি
মুঠোফোনে সিমটি চলছে বহু বছর ধরে। কিন্তু হঠাৎই নেটওয়ার্ক নেই। গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে (কাস্টমার কেয়ার সেন্টার) গিয়ে রাজধানীর একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শর্মিলা মুন জানতে পারেন, তাঁর বাবার নামে নিবন্ধিত এই সিমটির সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কারণ হিসেবে গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, শর্মিলার বাবার নামে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ১০টির বেশি। তাই এই সিমটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। শর্মিলার বাবার মৃত্যু হওয়ায় এই সিমটির মালিকানা বদলের সুযোগ নেই। আর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সমাধানেরও কোনো উপায় নেই। ফলে সিমটি অচল হয়ে গেছে।
উন্নয়নকর্মী সুমনা আক্তার ভিন্ন এক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী এই ব্যক্তির আঙুলের ছাপ বায়োমেট্রিকে স্পষ্ট আসে না। তাই কয়েক বছর আগে নিজের নামে সিম নিতে গিয়ে তাঁকে বিপাকে পড়তে হয়েছিল। এ জন্য এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে তাঁকে ঘুরতে হয়েছিল। শেষপর্যন্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে অনাপত্তি সনদ এনে তিনি সিম নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।
তিন ধরনের জটিলতা হলো—মূল গ্রাহক বিদেশে থাকলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তির কাছে সিম হস্তান্তর। বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তির আঙুলের ছাপের অমিল হলে সিম প্রদান। গ্রাহকের মৃত্যুর পর বৈধ উত্তরাধিকারীর কাছে সিম হস্তান্তর।
শুধু শর্মিলা বা সুমনাই নন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এ ধরনের জটিলতায় পড়ছেন অনেক গ্রাহক। এ রকমের পরিস্থিতি বিবেচনায় তিন ধরনের বায়োমেট্রিক জটিলতার ক্ষেত্রে ‘বিশেষ পদ্ধতিতে’ সিম ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কমিশনের সবশেষ গত ৩১ মার্চের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আগেও গ্রাহক এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন জানালে আমরা সমাধান করতাম। এখন বিষয়টি গাইডলাইনে আনা হলো। গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। -মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, বিটিআরসির চেয়ারম্যান।
তিন ধরনের জটিলতা হলো মূল গ্রাহক বিদেশে থাকলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তির কাছে সিম হস্তান্তর। বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তির আঙুলের ছাপের অমিল হলে সিম প্রদান। গ্রাহকের মৃত্যুর পর বৈধ উত্তরাধিকারীর কাছে সিম হস্তান্তর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এখন থেকে এসব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে সিম নিতে পারবেন।
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, এত দিন এ ধরনের সমস্যার সমাধানে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা ছিল না। ফলে মানবিক ও জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে নিষ্পত্তি করতে হয়েছে।
গত এক বছরে চার মুঠোফোন অপারেটরের এমন সব জটিলতার ৮৮টি অনুরোধ অনুমোদন করে বিটিআরসি।এর মধ্যে সিম রিপ্লেসমেন্ট ৫১টি। নতুন সিম নিবন্ধন ৮টি। মালিকানা পরিবর্তন ২৯টি। দেখা গেছে, এসব জটিলতার ক্ষেত্রে অপারেটরদের নিজস্ব পর্যায়ে সমাধানের সক্ষমতা সীমিত।
গত এক বছরে চার মুঠোফোন অপারেটরের এমন সব জটিলতার ৮৮টি অনুরোধ অনুমোদন করে বিটিআরসি। সংস্থাটির সূত্র জানায়, এর মধ্যে সিম রিপ্লেসমেন্ট ৫১টি। নতুন সিম নিবন্ধন ৮টি। মালিকানা পরিবর্তন ২৯টি। দেখা গেছে, এসব জটিলতার ক্ষেত্রে অপারেটরদের নিজস্ব পর্যায়ে সমাধানের সক্ষমতা সীমিত। তাই অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বিটিআরসিকেই অনুমোদন দিতে হয়েছে।
এত দিন এ ধরনের সমস্যায় গ্রাহক মুঠোফোন অপারেটরের কাছে আবেদন করলে অপারেটর তা কমিশনে পাঠাত। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক সরাসরি কমিশনেও আবেদন করতে পারতেন।
বিটিআরসি বলছে, মূল গ্রাহক বিদেশে থাকলে সিম পুনঃ উত্তোলনের জন্য প্রয়োজন হবে তাঁর পাসপোর্ট ও ভিসার অনুলিপি, কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং গ্রাহকের পক্ষে সিম গ্রহণকারীর পরিচয়পত্র। নথিপত্র যাচাইয়ের পর মূল গ্রাহকের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করে সিম পুনঃ উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হবে।
আঙুলের ছাপের সমস্যার ক্ষেত্রে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মেডিক্যাল বোর্ডের প্রত্যয়নপত্র। আর গ্রাহকের মৃত্যু হলে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র, মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশনামা ও বৈধ উত্তরাধিকারীর পরিচয়পত্র দেখিয়ে সিম হস্তান্তরের আবেদন করা যাবে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, ‘আগেও গ্রাহক এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন জানালে আমরা সমাধান করতাম। এখন বিষয়টি গাইডলাইনে আনা হলো। গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’