যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ বিমান অভিযানে ইরানের শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা কামাল খারাজি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার তেহরান-এ তার বাসভবনে এ হামলা চালানো হয়।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় খারাজি ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। খারাজি বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খারাজি ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং স্ট্র্যাটেজিক কাউন্সিল অন ফরেইন রিলেশন্স-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি-র ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একজন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যা ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। এরপর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনা চলছিল। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ২১ দিনের কূটনৈতিক সংলাপ হলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা ভেঙে যায়। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।
চলমান সংঘাতে ইরানও পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান-এ অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জনে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।