বেনাপোলে মিজান হত্যার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্য উন্মোচন হয়নি, অভিযোগের তীর পরিবারের দিকে


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ /
বেনাপোলে মিজান হত্যার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্য উন্মোচন হয়নি, অভিযোগের তীর পরিবারের দিকে

সাবা প্রতিবেদক: বেনাপোলে মিজান হত্যার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্য উন্মোচিত হয়নি? অভিযোগের তীর পরিবারের দিকে।

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোলে গরু ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে গলা কেটে নিজ বাড়িতে হত্যার ৬ মাসেও রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

হত্যার ঘটনায় পুলিশকে আলামত হিসাবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেওয়া হলেও মামলার অগ্রগতি নাই। পুলিশের ব্যর্থতা অপরাধীকে আড়াল করার সন্দেহ জন্ম নিয়েছে ।
এদিকে মামলার বাদী এসব নিয়ে দৌড় ঝাপ করার তাকেও বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, গত বছরের আগষ্ট মাসে দিবাগত রাত্রে বেনাপোলের ছোটআঁচড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। সিসি টিভির ক্যামেরায় বহিরাগত কারো প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কে হত্যা করলো। তবে সাংবাদিকদের তথ্য প্রদানে সহযোগীতা না করা সহ নানান কারনে জড়িত সন্দেহের তীর ছুড়েছে অনেকে মিজানের ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীর দিকে।

জানা যায়, গত বছরের ২৮ আগষ্ট রাত্রে বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামের মিজানুর রহমানকে সিসি ক্যামেরার নিরাপত্তা বেষ্টনী নিজ বাড়ির উঠানে জবাই করে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়। ওই রাত্রে মিজানুরের বাড়িতে ছিল তার স্ত্রী ফিরোজা খাতুন ( ৪২) মেয়ে ফাতেমা খাতুন বৃষ্টি (২৪) এবং ছেলে ওমর ফারুক মুরসালিন (২০)

নিহতের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে মিজান বাড়িতে ফিরে গেট ও ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে ঘুমাতে যান।
সে সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার রাত্রে আনুমানিক আড়াইটার দিকে পাশের বড় আচঁড়া গ্রামের মাংস ব্যবসায়ী আহমেদ আলীর মাংস কাটার কাজ করতে যেতো।

পুলিশ এসে সিসি টিভি চেক করলে ভিডিও ফুটেজে দেখতে পাওয়া যায়, রাত্রি আনুমানিক ৩:৩০ মিনিটে আহমেদ আলীর ভ্যানচালক রহমত আলী এসে মিজানুরকে ডাকাতি করছে। ভ্যানচালক ছাড়া বহিরাগত কারো প্রবেশ না দেখায় এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও মিজান এর স্ত্রী ও ছেলে মেয়ের দিকে সন্দেহের তীর ছুড়ছে।

ভ্যানচালক রহমত আলী মিজানুরকে ডাকতে আসলে
বাড়ির মেইন গেট ভিতর থেকে বন্ধ করা ছিল।
ভ্যানচালক মিজান ভাই বলে উচ্চস্বরে ডাকতে থাকলে
মিজানুরের স্ত্রী ফিরোজা ঘরের ক্লপসিবল গেটের তালা খুলে তারপর অন্ধকারে বাহিরে বেরিয়ে আসে এবং মেইন গেট ভিতর থেকে খুলে দিলে তারপর ভ্যানচালক রহমত আলী বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে।

মিজানুরের মেয়ে ফাতেমা খাতুন (বৃষ্টি) পুলিশের উপস্থিতিতে বলেছে যে, আমার আব্বু ঘুম থেকে উঠলে আগে ঘরের সব লাইট গুলো জ্বালিয়ে দিতো। কিন্তু, আজকে আমাদের ঘরে কোন লাইট জ্বালানো ছিলনা।
চিৎকার চেচামেচির শব্দ শুনে পাড়া প্রতিবেশিরা সেখানে যেয়ে আবছা অন্ধকারে দেখতে পান,পায়ে স্যান্ডেল পরা অবস্থায় ঘরের ক্লপসিবল গেটের সামনে গোয়াল ঘরের দরজার পাশে মিজানুরের লাশ পড়ে আছে।

স্থানীয় সুত্র জানায় এত সুরক্ষিত বাড়িতে বাইরে কারো প্রবেশ না থাকলে হত্যাকন্ডটি কি ভাবে ঘটলো? এ প্রশ্ন এখন মুখ্য হয়ে দাড়িয়েছে। অনেকেই ধারনা করছেন হত্যার আগে মিজানুরকে চেতনা নাশক সেবন করিয়ে হত্যা করা হতে পারে। কারন নৃশংস ঘটনার সময় সে বাঁচার জন্য ছটফট – ছুটাছুটি, চিৎকার চেচামেচি কিছুই করতে পারেনি। তার রক্ত ফিনকি দিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে যায়নি, সমস্ত রক্তের স্রোত পিটের নিচদিয় নিরবে গড়িয়ে গেছে। পুলিশ মিজানুরের ব্যবহৃত মোবাইলটি উদ্ধার করতে পারেনি। মিজানুরের স্ত্রী ফিরোজা মামলার বাদী হতে চায়নি এমনকি মরদেহের ময়না তদন্ত করতে নিষেধ করেছিল। পরবর্তীতে ভাই হত্যার বিচার চাইতে মামলার বাদী হয় মিজানুরের বড় ভাই।

এদিকে হত্যার পরের দিন সকালে পুলিশ এসে সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখেন, ব্যবসায়ীক পার্টনার আহমেদ আলীর সাথে মিজানুরের কথা হয়েছে রাত্র ২:২৯ মিনিটে। মিজানুরের স্ত্রী ফিরোজা বলেছে আহমেদ যখন আমার স্বামীর সাথে কথা বলি আমি তখন জেগে ছিলাম। পুলিশ সিসি টিভির ফুটেজ চেক করে শুনতে পায় আহমেদ আলীর সাথে কথা বলার মাত্র ৬-৭ মিনিটের ব্যবধান মিজানুরের গলা কেটে দেওয়া হয়েছে। এবং তার শ্বাস প্রশ্বাস চলা অবস্থায় ঘরের ক্লপসিবল গেট লাগানোর শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। ওই গেট টেনে ভিতর থেকে তালা লাগিয়েছিল কে? ভ্যানচালক মিজানুরকে ডাকতে আসলে, মিজানুরের স্ত্রী ফিরোজা ওই ক্লপসিবল গেটের তালা খুলে তারপর অন্ধকারে বাহিরে বেরিয়ে আসে।

মিজানুরের মেয়ে ফাতেমা খাতুন (বৃষ্টি) পুলিশের উপস্থিতিতে বলেছে যে, আমার আব্বু ঘুম থেকে উঠলে আগে ঘরের সব লাইট গুলো জ্বালিয়ে দিতো। কিন্তু, আজকে আমাদের ঘরে কোন লাইট জ্বালানো ছিলনা।

চিৎকার চেচামেচির শব্দ শুনে পাড়াপ্রতিবেশিরা সেখানে যেয়ে আবছা অন্ধকারে দেখতে পান,পায়ে স্যান্ডেল পরা অবস্থায় ঘরের ক্লপসিবল গেটের সামনে গোয়াল ঘরের দরজার পাশে মিজানুরের লাশ পড়ে আছে।

যে স্থানে মিজানকে হত্যা করা হয়েছে সে জায়গাটা সিসি ক্যামেরার পিছনে হওয়াই মানুষের মুখে নানা গুঞ্জন রয়েছে। এটা একটি ছক মিজানুরকে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী মিজানকে হত্যার আগের দিন দুপুর বেলা মিজানের মেয়ে ফাতেমা খাতুন বৃষ্টির বাক বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে মেয়ে তার বাবাকে খালি হাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। পুলিশের কাছে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী ওই বাড়িতে ঘটনার দিন রাত ১ টার দিকে বৃষ্টির কান্নার আওয়াজ শোনা যায়।

এছাড়াও মিজানুরকে হত্যার দিন একবার নীল শার্ট পরিহীত এক ব্যাক্তিকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ওই ব্যাক্তি প্রায় ৭ বছর যাবত ওই বাড়িতে নিয়মিত ভাবে যাতায়াত করে। তাকে নিয়েও চলছে রহস্যের ধুম্রজাল।

বিশেষ সুত্র জানায় মিজান হত্যাকান্ডের সাথে পরকীয়া প্রেমের মত কোন ঘটনাও থাকতে পারে। এবং নিজের স্ত্রী ও মেয়ে চেতনানাশক ঔষধ দিয়ে নিস্তেজ করে কারো সহযোগীতা নিয়ে তাকে হত্যা করতে পারে।

মিজানুরের ঘর থেকে তিনগজের মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আবার ঘরের গেট কে বন্ধ করল? ভ্যান চালক এসে ডাকাডাকির আগে মিজানুরের স্ত্রী ও মেয়ে বৃষ্টির কথার আওয়াজ পাওয়া গেছে। এছাড়াও সিসি ক্যামেরায় শব্দে শুনা গেছে মিজানুরের শ্বাস প্রশ্বাস বা হাপানীর শব্দ শেষ হলে স্ত্রী ফিরোজা তার মেয়েকে উদ্দেশ্যে করে বলছে বৃষ্টি এবার কি করবি। নানা ধরনের ধুম্রজাল বইছে এ হত্যাকান্ডে।

এদিকে নিহতের সন্তান বা স্ত্রী বাদী না হওয়ার পিছনেও রয়েছে সন্দেহ। মিজান হত্যাকান্ডে প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় সাবেক ওসি রাসেল মিয়াকে বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে ক্লোজ করা হয়। কিন্তু, তারপর দুই জন ওসি আসলেও হত্যার রহস্যের দ্বার উন্মোচন হয়নি। এ নিয়ে চলছে এলাকায় নানা জল্পনা কল্পনা ও আলোচনা সমালোচনা।

সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে,সামনের মেইন গেট ভিতর থেকে বন্ধ করা ছিল।
ঘরের ক্লপসিবল গেট ভিতর থেকে তালা লাগানোছিল।
মিজানুরের স্ত্রীর ভাষ্য সে ওই সময় জেগেছিল।
অথচ মাত্র ৬ -৭ মিনিটের ব্যবধান ঘরের সামনে মিজানুরের লাশ পড়ে ছিলো। বাড়িতে থাকা তারা তিনজন কিছুই জানেনা! এটা অগ্রহণ যোগ্য।

এ বিষয় বেনাপোল পোর্ট থানার এস আই (উপ-পরিদর্শক) মামলার আইও মানিক সাহা বলেন, মিজান হত্যা মামলার রহস্যের এখনো কোন অগ্রগতি নাই। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি সাধ্যমতো।