

সারসা বার্তা ডেস্ক: বেনাপোল পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার মোশারফের ঘুষ বাণিজ্য,স্বজন প্রীতি ও দূনীতি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে পৌরসড়ক।
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: বেনাপোল পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার মোশারফের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, তার তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় নির্মাণ শেষ না হতেই বিভিন্ন রাস্তা খসে পড়ছে ও ভেঙে যাচ্ছে।
পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র কয়েক মাস আগে নির্মিত বা সংস্কার করা রাস্তাগুলোর পিচ উঠে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও ইট সরে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, “এভাবে রাস্তা ভাঙলে জনগণের টাকাই শুধু নষ্ট হচ্ছে না, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার একাধিক প্রকল্পে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাজের মানে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। কাজের বিল ছাড়ের সময় প্রকৃত কাজের মান যাচাই না করে কাগজে-কলমে সব ঠিক দেখানো হয়েছে বলে দাবি করছেন একাধিক ঠিকাদার ও পৌরসভার ভেতরের সূত্র।
আরও অভিযোগ উঠেছে, ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ একই পৌরসভায় একযুগের বেশি সময় ধরে একটানা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন একই জায়গায় চাকরি করার সুযোগে তিনি একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন, যার কারণে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বারবার ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে।
পৌরবাসী আবদার রহমান বলেন, একজন প্রকৌশলী যদি ঠিকাদারের স্বার্থ দেখে কাজ করেন, তাহলে উন্নয়ন মানেই দুর্নীতি হয়ে দাঁড়ায়। বেনাপোল পৌরসভায় সেটাই হচ্ছে।” এতে নিম্ন মানের কাজে সড়ক টেকসই হচ্ছেনা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বিকার করে জানান, নিয়ম মেনে উন্নয়ন কাজ চলছে। তবে কোন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এক যুগের বেশি সময় ধরে একই জায়গাই থাকার বিষয়ে বলেন, মন্ত্রনালয় তাকে রেখেছে বলেই আছেন।
নাম প্রকাশে এক ঠিকাদার জানান, ঘুষ ছাড়া টেন্ডার পাওয়া কঠিন। কেউ কাজ পেলে টাকা উঠানোর সময় পৌর প্রশাসক সহ বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে নিদিষ্ট হারে কমিশন কেটে রাখেন পৌর সভার ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনের বাড়ি ঢাকার সাভার উপজেলার বি ইপিজেট ভাদাইল উত্তর পাড়ায়। এছাড়া তার বর্তমান ঠিকানা পাবনার সুজানগর উপজেলার শ্যমনগর গ্রামে। এই দুই জায়গাই নামে,বেনামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে। যা তদন্তে নামলে বেরিয়ে আসবে।
শার্শা উপজেলা দূণীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লিটু জানান, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছি। অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :