বেনাপোল প্রতিনিধি : : বেনাপোল প্রাইমারী স্কুলের পিকনিক ট্রাজেটিতে নিহত ৯ শিক্ষার্থীর স্মরন সভা ও র ্যারী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সকালে বেনাপোলের সামাজিক সংগঠন সৃজন শিখার উদ্যোগে শোক র্যালী ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া পৌরসভা কর্তৃক স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্প অর্পন করে।
জানা যায়, ২০১৪ সালের আজকের এদিনে ১৫ ফেব্রুয়ারী মুজিবনগর থেকে শিক্ষা সফর শেষে বাড়ি ফেরার পথে চৌগাছার ঝাউতলা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষার্থী। আহত হয় আরও অন্তত ৪৭ জন।
সৃজন শিখার উপদেষ্টা মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, শিশুরা নিহতের ঘটনায় বেনাপোল পৌরসভা ১৪ ফেব্রুয়ারী শোক দিবস ঘোষনা করেছিল। বেনাপোল প্রাইমারী স্কুলের সামনে তৈরী করা হয় স্মৃতি স্তম্ভ ও একটি পুস্তক আকৃতির স্তম্ভ। প্রতিবছর এই দিনে বেনাপোল পৌরসভা ও প্রাইমারী স্কুলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে শোক দিবসটি পালন করা হয়। তবে এ বছর স্কুল বা পৌরসভার পক্ষ থেকে তেমন কোন কর্মসূচী পালন করা হয় নাই। এমনকি স্মৃতি স্তম্ভটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করারও প্রয়োজন মনে করেনি পৌরসভা। নাম মাত্র পৌরসভা পুষ্প অর্পন করে দায়সারা দায়িত্ব শেষ করে। স্কুলটির পক্ষ থেকেও ছিলনা কোন আয়াজন। সামাজিক সংগঠন সৃজন শিখার পক্ষ থেকে তারা শোক র ্যালী ও নিহতের জন্য দোয়া অনুষ্ঠান করেছেন। আগামী বছর গুলোতে সবার উপস্থিতিতে স্মরন সভার পালন হবে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সড়ক দূর্ঘটনায় সেদিন ঘটনাস্থলে নিহতদের মধ্যে ছিলেন- বেনাপোল পৌরসভার ছোটআঁচড়া গ্রামের সৈয়দ আলীর দুই মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সুরাইয়া (১০) ও তার বোন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী জেবা আক্তার (৮), ছোটআঁচড়া গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মিথিলা (১০), রফিকুল ইসলামের মেয়ে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী রুনা আক্তার মীম (৯), লোকমান হোসেনের ছেলে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শান্ত (৯), গাজিপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র সাব্বির হোসেন (১০) ও নামাজ গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী আঁখি (১১)।
১৩ দিন পর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছোটআঁচড়া গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ইকরামুল (১১)। সর্বশেষ দুর্ঘটনার ৩২ দিন পর ১৯ মার্চ ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় একই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইয়ানুর রহমান (১১)।