ভবদহের ‘দুঃখ’ ঘোচাতে ১৯০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৯, ২০২৫, ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ /
ভবদহের ‘দুঃখ’ ঘোচাতে ১৯০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

ভবদহ অঞ্চলের চার দশকের দুঃখ ঘোচাতে প্রায় ১৯০ কোটি টাকার একগুচ্ছ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের স্থানীয় জলাবদ্ধতার অবসানের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় জনগণ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্টরা। এই অঞ্চলের জলাবদ্ধ লাখো মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এরইমধ্যে প্রকল্পগুলো একনেকে অনুমোদন হয়েছে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবদহ সংলগ্ন ৮১ কিলোমিটার নদী খনন ও ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আমডাঙ্গা খাল খনন এবং বেড়িবাঁধ নির্মাণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ৮১ কিলোমিটার নদী খননের কাজ। এর আগে আমডাঙ্গা খাল খনন ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের ৪৯ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি মাসে লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং মেজর পদমর্যাদার সেনাবাহিনীর প্রকৌশল কোরের নেতৃত্বে ভবদহ এলাকায় সমীক্ষা চলেছে।

এদিকে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) নাকি আরও উন্নত প্রযুক্তিতে পলি অপসারণ হবে—এ নিয়ে ভবদহ এলাকায় সমীক্ষা চালাচ্ছে আইডব্লিউএম (ইনস্টিটিউট অব ওয়ার মডেলিং)। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন এবং সেনাবহিনীর সঙ্গে পাউবোর এমওইউ বা সমঝোতা স্মারক হলেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে কাজ শুরু হবে বলে পাউবো সূত্রে জানা গেছে।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ৪৪ বছর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই জনপদের মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। ভবদহ স্লুইস গেট প্রস্তাবসহ নদী পানি ব্যবস্থাপনার প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ এর কারণ। এই জনপদে ভবদহ স্লুইস গেট একটি মরণ ফাঁদ। এর কোনো কার্যকারিতা এবং তার পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতাও নেই। পাম্পের মাধ্যমে সেচ প্রকল্প তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। ২০০-৩০০ ফুট প্রশস্ত ও সুগভীর নদী হত্যা করা হয়েছে। ৪৪ বছরে সংস্কারের নামে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ও ঠিকাদার চক্রের সিন্ডিকেট লুটপাটের সুবিধার্থেই তা করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ জানান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে জনগণ উদ্ভাবিত টিআরএম প্রকল্প গণআন্দোলনে গৃহীত হলেও বিগত সরকার ২০১২ সালে ‘সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার’ অজুহাতে বাতিল করে দেয়। এখন এই জনপদের মণিরামপুর, কেশবপুর বা অভয়নগর শুধু নয়, জলাবদ্ধতা বিস্তৃত হয়েছে খুলনার ডুমুরিয়া ও যশোর শহর পর্যন্ত।

ভবদহ অঞ্চলের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে এ পর্যন্ত প্রায় হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সিংহভাগ অর্থ লুটপাট হয়েছে বলে দাবি পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটিসহ ভুক্তভোগীদের। ১৯৯৬ সালে কেজেডিআরপির (খুলনা-যশোর ড্রেনেজ রিহেবিলেশন প্রকল্প) আওতায় ২২৯ কোটি, ২০০২ সালে খুলনা-যশোর পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের আওতায় ২৫২ কোটি, ২০০৬ সালে ৬৯ কোটি, ২০১১ সালে ৭১ কোটি, ২০১৪ সালে ৪৪ কোটি, পাম্প ও বিভিন্ন সময় পলি অপসারণসহ নানা প্রকল্পে সবমিলিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
জলাবদ্ধতার স্থায়ী সংকটের এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ভবদহ অঞ্চলের চার দশকের দুঃখ ঘোচাতে সরবশেষ প্রায় ১৯০ কোটি টাকার একগুচ্ছ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবদহ সংলগ্ন ৮১ কিলোমিটার নদী খনন ও ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আমডাঙ্গা খাল খনন এবং বেড়িবাঁধ নির্মাণ।