ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে সাবেক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট মুসলিম রাজনীতিবিদ আজম খানের প্রতিষ্ঠিত ‘মোহাম্মদ আলী জোহর বিশ্ববিদ্যালয়’-এর অধিকাংশ ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজ্যের রামপুর জেলা প্রশাসনের দাবি, ২৫০ একরজুড়ে বিস্তৃত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টিই কোনো রকম বৈধ অনুমোদন ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এসব ভবন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় বুলডোজার চালিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে স্থানীয় ‘রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (আরডিএ)। যদিও চলমান আন্দোলনের মুখে প্রশাসন সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে, তবে বুলডোজার অভিযানের আশঙ্কা পুরোপুরি কেটে যায়নি।
রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগঃ সমাজবাদী পার্টির (এসপি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং উত্তরপ্রদেশের বর্ষীয়ান নেতা আজম খান এই বিশ্ববিদালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও আমৃত্যু চ্যান্সেলর। ২০১৭ সালে কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আজম খানের বিরুদ্ধে জমি দখল ও জালিয়াতিসহ প্রায় একশটি মামলা দায়ের করা হয়।রাজনৈতিক বিতর্কের ফোরাম
বিরোধী দল এবং বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিজেপি সরকার রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও মুসলিম ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু বানাতেই এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে বিজেপি মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, আইন মেনেই অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি ও সামাজিক উদ্বেগঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বর্তমানে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অধিবাসীরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়াশোনা করা প্রায় ৩,০০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী শিক্ষার্থী। অনেক মুসলিম ছাত্রী জানান, নিরাপত্তা ও পারিবারিক সম্মতির কারণে তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলেন; এটি বন্ধ হয়ে গেলে তাদের আর উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকবে না। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী হিন্দু ধর্মাবলম্বী, তারাও এই ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, স্থাপনাগুলোর নির্মাণের অনেক পর এলাকাটি রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে আসে, ফলে তৎকালীন সময়ে অনুমোদনের প্রশ্নটি অবান্তর ছিল। তারা উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।