ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তিপূর্ণ ছাত্র-বিক্ষোভ এবং নাগরিক আন্দোলনের ওপর সাম্প্রতিক পুলিশি দমনপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা। গত তিন মাস ধরে চলা এসব আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিমাত্রায় বলপ্রয়োগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (ওএইচসিএইচআর)-এর প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত এবং প্রায় ১৩ কোটি মানুষের—বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘু, দলিত ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের—ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এই অহিংস সমাবেশেও পুলিশ লাঠিচার্জসহ বলপ্রয়োগ করেছে এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে যোগ দিতে বাধা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লিতে সাড়ে সাত হাজারের বেশি তরুণ, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে সম্প্রতি নির্বিচারে আটক করা হয়েছে। এমনকি তাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের আটক কেন্দ্রে নিয়ে মোবাইল ফোন জব্দ করা এবং বিক্ষোভ সম্পর্কিত তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। এর পাশাপাশি নারী ও মেয়েদের ওপর যৌন নিপীড়ন এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারা ব্যবহার করে জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা, যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট শাটডাউন এবং ডিজিটাল নজরদারি চালানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করা, গণসমাবেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।