
দেশের সবচেয়ে এখন ‘গরম খবর’ হচ্ছে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ। গতকাল পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণায় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মুখে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেন; ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ও ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ সমিতির সভাপতি হিসেবে তিনিই রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেয়ার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন। বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগ করা মিষ্টি সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মরহুম সাইদুর রহমান নিউটনের স্ত্রী এবং ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন।
তিনি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রদলের নেত্রী হিসেবে কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। ‘বিএনপি পরিবারের সদস্য’ ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসী ও দলের নেতাকর্মীদের বার্তা দিলেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা জানিয়েছেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নির্মূল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী কাউকেই ছাড় দেবেন না। বিএনপি পরিবারের মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি এবং সিনিয়র নেতাদের বার্তা দিলেন বিতর্কিত কা- করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সেখানেও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে দায়িত্ব দেয়া হবে।
সবার টার্গেট হয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার একের পর এক সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত, পররাষ্ট্রনীতিতে সাফল্য, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগমুখী করা, জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক হওয়ার পর দৃঢ় সংকল্পে অল্প সময়ের গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কিছুটা সমাধানে, জাতিসংঘে কূটনৈতিক সাফল্য, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তাদানে সম্মতি আদায়, চীনের অর্থায়নে তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়ন ও চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব পজেটিভভাবে গ্রহণ করা, প্রশাসনকে গতিশীল করা এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা আনতে নিজেকে বদলে ফেলা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এসব কর্মসূচি মানুষ পজেটিভ হিসেবে নিচ্ছে। ধারাবাহিক এই সাফল্যগুলো অনেকের সহ্য হচ্ছে না।
গণমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়ায় তার (তারেক রহমান) বিরুদ্ধে চলছে নানান অপপ্রচার। কখনো রাজপথে কর্মসূচির মাধ্যমে তারেক রহমানকে ‘গণবিরোধী’ প্রমাণের অপচেষ্টা হচ্ছে; কখনো বিএনপির নামের সঙ্গে চাঁদাবাজ ট্যাগ দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন দলকে গণবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হচ্ছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে তারেক রহমান যখন ২০ বছরের অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত, বিদেশি ঋণে জর্জরিত, বিনিয়োগবিহীন এবং কোটি কোটি বেকারত্বের দেশকে পুনর্গঠনে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন; তখনই জামায়াতসহ কিছু রাজনৈতিক শক্তি এবং পেশাজীবী-বুদ্ধিজীবী তারেক রহমানকে নিশানা করেছেন।
বিপর্যস্ত অর্থনীতির চাকা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, বেকারত্ব যাতে দূরীভূত না হয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে বাংলাদেশে নতুন নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন সে লক্ষ্যে একের পর এক ইস্যু সৃষ্টি করে তার দায় প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশাল ‘বট বাহিনী’ সক্রিয় করা হয়েছে। কখনো তারেক রহমান সংস্কারবিরোধী, কখনো গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি করে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জনমত গঠনে ব্যর্থ হয়ে একের পর এক বিষবাষ্প ফ্রন্ট খুলছেন।
অন্যদিকে বিএনপির ভেতরে কেউ কেউ চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বে মেতে উঠেছেন। গতকালও ফেনীর এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, ‘দেশে ঘটা অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটনাকে পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এতে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হলে তার দায়ভারও তাদের নিতে হবে। একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কর্মকা-ে শুধু দেশই নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, অথচ তারা অন্যদের নসিহত করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বিএনপি সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।’
ভঙ্গুর অর্থনীতির দায় মাথায় নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে বিএনপি। এরপরও প্রধানমন্ত্রী সীমিত সম্পদের মধ্যেই সব পক্ষকে খুশি রেখে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনকে গতিশীল করার চেষ্টা করছেন। অথচ রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে একটি চক্র প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ বিতর্কিত করতে মাঠে নেমে পড়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই চক্র ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিল লন্ডন থেকে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন না। তারেক রহমান যখন দেশে ফিরলেন তখন নানাভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানোর অপচেষ্টা হয়। কিন্তু তারেক রহমানের দৃঢ়তায় অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর তারেক রহমান সুচিন্তিতভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।
তিনি দেশনেতা হিসেবে প্রতিদিন নিজেকে ভাঙছেন, গড়ছেন, সংশোধিত করছেন। যে ভারত তারেক রহমানের নামে কুৎসা রটনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল; সেই ভারত সরকার এখন তারেক রহমানকে দিল্লি সফরে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, ঢাকায় কর্মরত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপ এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন ঢাকা সফরের প্রমাণ দেয় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে কত মরিয়া। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথমেই চীন ছুটে যান উন্নয়ন সহযোগী দেশটিকে পাশে পেতে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পি’র সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। তিস্তা মহাপ্রকল্প, ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব গ্রহণ করেন। জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে ইরান, তুরস্ক, পকিস্তানের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ ১১টি দেশের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সউদী আরবের প্রিন্সের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হন।
আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলেন। এতে অবশ্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যারা প্রচার করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পাত্তাই পাবেন না; তাদের অবাক করে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তারেক রহমানের প্রশংসা করেন। এমনকি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া খলিলুর রহমান কূটনৈতিক চালে নিরাপত্তা পরিষদে হিন্দুত্ববাদী ভারতের অন্তর্ভুক্তি হওয়ার স্বপ্ন চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন।
তারেক রহমান ধারাবাহিকভাবে একের পর এক যখন সাফল্য দেখাচ্ছেন তখন বিরোধী দলের অপপ্রচার এবং দলের ভেতরে কিছু নেতাকর্মীর বিতর্কিত কর্মকা- সরকারের বিব্রতকর কারণ হয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপাটিজ আবাসিক প্রকল্পের কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ব্রাউনফিশ হামলার ঘটনা নিয়ে ‘বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ট্যাগ’ দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। অথচ বিএনপির কেউ সেখানে চাঁদা দাবি করেনি এবং জমাজমি নিয়ে বিরোধে ওই ঘটনা ঘটেছে। যে সালমান মুক্তাদির সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইফে ‘বিএনপিকে চাঁদা না দেয়ায় হামলা’ অভিযোগ করেছিল; পরে সেই জানান, বিএনপির কেউ চাঁদা দাবি করেনি। জমাজমির বিরোধ ইস্যুতে জামায়াতের আমির তীর্যক বক্তব্য দিয়েছেন।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আরেক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় এমন ঘটনা কেমন করে ঘটে? বাস্তবতা হচ্ছে মানিকদী প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় পড়লেও ওটা ক্যান্টনমেন্টে এরিয়া। সেখানে বাইরে থেকে কিছুই করার নেই। বিএনপিকে নিয়ে বিরোধী দলের পরিকল্পিত এমন অপপ্রচারে ভ্রুক্ষেপ নেই প্রধানমন্ত্রীর। তিনি নিজের মতো করেই এগিয়ে যাচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীদের তার কঠোর বার্তা কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও ছাড় দেননি। কিছু কর্মকা-ে বিতর্ক ওঠায় একজন মন্ত্রীকে (জহির উদ্দিন স্বপন) মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে আরো কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী আমলার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকা-ের অভিযোগ উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধী দলসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বেশির ভাগ সময় বিদেশে থাকেন, দেশে থাকলেও অসুস্থ থাকেন। সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী নির্বাচনে এলাকায় অর্ধশত হিন্দু শিক্ষার্থীকে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেন অথচ সেখানে একজন মুসলমান শিক্ষার্থী না দেয়ায় বিতর্ক উঠেছে। আরো কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে নানান অনিয়মের। এমপিদের বেশির ভাগই স্বজনপ্রীতির কারণে নিজ নির্বাচনী এলাকায় দলের পরীক্ষিত ও নিবেদিত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখছেন না। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংবলিত অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জমা দেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নেয়া হবে। এমনকি সারাদেশে সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে যে তদবিরবাজি হচ্ছে এবং বিপুল অর্থের টাকা লেনদেন হচ্ছে সে বিষয়েও সতর্ক করে দেয়া হয়েছে নেতাকর্মীদের।
আগামী বছরের শুরুতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এখনই দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে মাঠ পর্যায়ে দল কিছুটা হলেও সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারপরও ১৯৭৪ সালের চোরাচালান ঠেকাতে শেখ মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ‘যৌথ বাহিনীর অভিযান’ পরিচালনা করেছিলেন; ২০০২ সালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়া ‘ক্লিন হার্ট অপারেশন’ পরিচালনা করেছিলেন; তারেক রহমান বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সে ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। ’৭৪ সালে অভিযানে সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতারকৃতদের দেখা গেছে সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। আবার বেগম খালেদা জিয়ার সময় ক্লিন হার্ট অপারেশনে গ্রেফতারকৃতদের বেশির ভাগই ছিলেন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ অভিযানে দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গ্রেফতার হওয়ায় ক্ষমতাসীন দল সাময়িক অসুবিধার মধ্যে পড়েছিল; কিন্তু অভিযানের পর সফলতা এসেছিল দলের এবং নেতার ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, ‘রাষ্ট্র ও জনগণের প্রয়োজন সাপেক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ বাহিনী নামানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার’। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ বাহিনী তাদের তৎপরতা আরো বাড়াচ্ছে। তবে কোথাও কোথাও দায়িত্ব পালনে অবহেলা হচ্ছে’। সূত্রের দাবি ‘ক্লিন হার্ট অপারেশন’-এর মতো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি দমনে নতুন নামে অপারেশন পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও শান্তি শৃঙ্খলায় জনগণের কাছে কমিটেড।
এদিকে চলমান চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত ও কঠোর অভিযান আরো জোরদার করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ও বাড়ি দখল, হামলা এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বা পরিচয়ে যেন অপরাধীরা ছাড় না পায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব ঠেকাতে না পারলে তা ক্ষমতাসীন দলের জন্য চরম ভাবমর্র্যাদা সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ‘এখনো কোনো বিশেষ যৌথ বাহিনী› গঠনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হলেও পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত নিয়মিত অভিযান দেশের সর্বত্র আরো জোরালো করা হবে। সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজি দমনে এই সমন্বিত উদ্যোগ কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে’।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকা- দমনে যৌথ বাহিনীর যেকোনো অভিযানের জন্য পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দফতর বাহিনীর মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যৌথ বাহিনীর অভিযানের জন্য পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ বাহিনী আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।