ফাইল ছবি
পৃথিবীর কক্ষপথে ‘মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র’ মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান ট্রয় মেইঙ্ক সোমবার জানিয়েছেন, এসব অস্ত্র পৃথিবীতে থাকা মার্কিন বাহিনীকে শত্রুপক্ষের হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহার করা হবে। তার এই ঘোষণাকে মহাকাশের সামরিকীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি সম্মেলনে মেইঙ্ক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন পৃথিবীর কক্ষপথে এমন ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপন’ রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের আক্রমণ থেকে মার্কিন যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম।
তবে এসব অস্ত্র ঠিক কী ধরনের, কতগুলো মোতায়েন করা হয়েছে, কখন কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে কিংবা কোথায় অবস্থান করছে—এসব বিষয়ে কোনও তথ্য দেননি তিনি।
মেইঙ্কের এই ঘোষণা মূলত চীন ও রাশিয়ার উদ্দেশে একটি বার্তা হিসেবেই দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে পৃথিবীর কক্ষপথ ভবিষ্যতে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সামরিক ক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।
কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র? এ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্রের কক্ষপথে থাকা এসব ‘অস্ত্র’ আসলে কী?
মার্কিন কর্মকর্তারা এর বিস্তারিত প্রকাশ না করায় নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এগুলো সরাসরি কোনও উপগ্রহে আঘাত করে ধ্বংস করার মতো অস্ত্র না হয়ে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বা রেডিও-জ্যামিং ব্যবস্থা হতে পারে।
সিকিউর ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশনের স্পেস সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটির প্রধান পরিচালক ভিক্টোরিয়া স্যামসন বলেন, মেইঙ্কের বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো ‘অস্ত্র’। কারণ এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা মহাকাশে থাকা এমন ব্যবস্থাকে সাধারণত ‘সক্ষমতাসম্পন্ন সিস্টেম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এবার সরাসরি অস্ত্র মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।
স্যামসনের মতে, ‘স্পেস কন্ট্রোল’ বলতে মহাকাশে প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত বা নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি নিজের বাহিনীকে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে কার্যক্রম চালানোর সুবিধা দেওয়া বোঝায়। এর মধ্যে ধ্বংসাত্মক ও অ-ধ্বংসাত্মক—দুই ধরনের পদ্ধতিই থাকতে পারে।
ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোপলিটিকসের সহযোগী অধ্যাপক ব্লেডিন বোয়েনও মনে করেন, মার্কিন অস্ত্রগুলো কোনও ধরনের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বা রেডিও-জ্যামিং প্ল্যাটফর্ম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
উপগ্রহে সরাসরি আঘাতের ঝুঁকি
মহাকাশে যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়ংকর একটি পদ্ধতি হলো কাইনেটিক বা সরাসরি আঘাতকারী অস্ত্র। যেমন কোনও ‘সুইসাইড স্যাটেলাইট’ প্রতিপক্ষের উপগ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটিয়ে সেটিকে ধ্বংস করতে পারে।
এ ধরনের হামলার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হলো মহাকাশে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়া। উচ্চগতিতে ঘুরতে থাকা এসব ধাতব টুকরা অন্য উপগ্রহ ও মহাকাশযানের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মোতায়েন করা অস্ত্র যদি জ্যামিং বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের ব্যবস্থা হয়, তাহলে তা তুলনামূলকভাবে কম ধ্বংসাত্মক হলেও প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইটের কার্যক্রম ব্যাহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্যাটেলাইট বর্তমানে শুধু সামরিক বাহিনীর জন্য নয়, বেসামরিক মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও অপরিহার্য। জিপিএস, যোগাযোগব্যবস্থা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, নেভিগেশন, গোয়েন্দা তথ্যসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সেবা মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।
ফলে কোনও দেশের স্যাটেলাইটে হামলা বা জ্যামিং হলে তার প্রভাব শুধু সামরিক বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কী এই ‘স্পেস ফোর্স’?
যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স দেশটির সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ শাখা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
নাসা যেখানে বেসামরিক মহাকাশ গবেষণা ও অনুসন্ধানে কাজ করে, সেখানে স্পেস ফোর্সের দায়িত্ব মূলত সামরিক কার্যক্রমের জন্য মহাকাশ ব্যবহার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সামরিক স্যাটেলাইট পরিচালনা ও সুরক্ষা, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও অবস্থান নির্ণয় সেবা নিশ্চিত করা, মহাকাশে বস্তু ও সম্ভাব্য হুমকি পর্যবেক্ষণ এবং পৃথিবীতে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা।
স্পেস ফোর্সের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ও রাশিয়া এমন নতুন মহাকাশ প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং মার্কিন মহাকাশভিত্তিক সেবার ওপর নির্ভরতা কমাবে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত বা দুর্বল করার প্রযুক্তিও পরীক্ষা ও মোতায়েন করছে।
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন কি আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ?
মহাকাশে অস্ত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন থাকলেও সেখানে সব ধরনের অস্ত্রের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি হলো ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’। এই চুক্তির আওতায় পারমাণবিক অস্ত্রসহ অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন বা মহাকাশে মোতায়েন নিষিদ্ধ। চাঁদ ও অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুর ওপর সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং অস্ত্র পরীক্ষা করাও নিষিদ্ধ।
তবে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রচলিত বা সাধারণ অস্ত্র মোতায়েনের ওপর চুক্তিটি সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি।
এর ফলে প্রচলিত অ্যান্টি-স্যাটেলাইট অস্ত্র, ইলেকট্রনিক-ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য ‘কাউন্টারস্পেস’ প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায় না।
এই আইনি ফাঁকই বর্তমানে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের অন্যতম কারণ।
চীন ও রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মহাকাশকে অস্ত্রের ময়দানে পরিণত করা এবং সেখানে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরুর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো ও যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়াও মহাকাশকে ‘যেকোনও অস্ত্র থেকে মুক্ত’ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, মহাকাশের সম্পূর্ণ সামরিকীকরণ বন্ধের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ঐক্য আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ হলো, রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং মার্কিন স্যাটেলাইট ও অন্যান্য মহাকাশভিত্তিক ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে প্রযুক্তি তৈরি করছে।
চীন-রাশিয়ারও কি মহাকাশ অস্ত্র আছে?
স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও থিংকট্যাংকগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও রাশিয়া—দুই দেশই বিস্তৃত ‘কাউন্টারস্পেস’ সক্ষমতা তৈরি করছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে স্যাটেলাইটে হস্তক্ষেপ, সেটিকে অকার্যকর করা কিংবা প্রয়োজনে ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও রাশিয়ার কাছে সরাসরি উৎক্ষেপণ করে স্যাটেলাইট ধ্বংস করার অ্যান্টি-স্যাটেলাইট অস্ত্রের পাশাপাশি জ্যামিং, স্পুফিং ও সাইবার হামলার সক্ষমতাও রয়েছে।
সিকিউর ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশনের স্যামসনের মতে, চীন ও রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক জ্যামার থাকার বিষয়টি আগে থেকেই গবেষণায় উঠে এসেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও একই ধরনের সক্ষমতা থাকা অস্বাভাবিক নয়।
এছাড়া গত এক দশকে চীন ও রাশিয়া মহাকাশে ‘রেন্ডেজভু’ ও ‘প্রক্সিমিটি অপারেশন’ বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে কোনও দেশের স্যাটেলাইটের খুব কাছে গিয়ে সেটিকে পর্যবেক্ষণ বা ছবি তোলার মতো কার্যক্রম চালানো সম্ভব।
চীন একটি ‘স্পেস টাগ’ প্রযুক্তিও প্রদর্শন করেছে। এ ধরনের যান অন্য কোনও স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে এক কক্ষপথ থেকে অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নিতে পারে। তবে চীন এ ধরনের কৌশল পুরোনো নিজস্ব একটি স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করেছে বলে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া নয়
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা তৈরির প্রতিযোগিতা শুধু তিন পরাশক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভারতও অ্যান্টি-স্যাটেলাইট সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং এমন প্রযুক্তি উন্নয়ন করছে, যার মাধ্যমে একটি মহাকাশযান অন্য স্যাটেলাইটের কাছাকাছি থেকে কাজ করতে পারে।
ফ্রান্সও কক্ষপথে অন্য উপগ্রহের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে সক্ষম প্রযুক্তি তৈরি করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কক্ষপথে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
ইরানও তুলনামূলক কম দৃশ্যমান উপায়ে মহাকাশযুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবা ব্যাহত করতে দেশটি জ্যামিং ও স্পুফিং প্রযুক্তির ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছে।
ইসরায়েলও সামরিক মহাকাশ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা তৈরি করেছে। তবে দেশটি ধ্বংসাবশেষ তৈরি করতে পারে—এমন কোনও অ্যান্টি-স্যাটেলাইট পরীক্ষা চালিয়েছে, এমন প্রকাশ্য তথ্য নেই।
উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াও মহাকাশভিত্তিক আরও উন্নত প্রযুক্তি তৈরির প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
মহাকাশ কি পরবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশকে সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহারের প্রবণতা নতুন নয়। তবে কক্ষপথে সরাসরি ‘অস্ত্র’ মোতায়েনের কথা যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে স্বীকার করায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা গেছে।
স্যামসনের মতে, এই ঘোষণা মহাকাশযুদ্ধের প্রযুক্তিতে তাৎক্ষণিক কোনও বিপ্লব ঘটাবে না। তবে এটি মহাকাশকে অস্ত্র প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, মহাকাশ এমনিতেই সম্ভাব্য সংঘাতের একটি ক্ষেত্র ছিল; নতুন এই ঘোষণা সেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
মার্কিন স্পেস ফোর্সের বক্তব্য, তাদের সক্ষমতাগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুইভাবেই ব্যবহার করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়া ও চীন ২০০৭ সাল থেকেই মহাকাশে অস্ত্র পরীক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পথে রয়েছে।
তবে স্যামসনের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা চীন ও রাশিয়াকেও তাদের মহাকাশ অস্ত্র প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে উৎসাহিত করতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও কক্ষপথে নিজেদের অস্ত্র মোতায়েনের কথা ভাবতে পারে।
এর ফলে ‘কাউন্টারস্পেস’ সক্ষমতার বিস্তার আরও দ্রুত হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করবে।
কারণ, মহাকাশের ওপর নির্ভরতা এখন শুধু মহাকাশ শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক মানুষ কোনও না কোনওভাবে স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য ও সেবা ব্যবহার করেন। ফলে মহাকাশে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা রাশিয়ার মতো সামরিক শক্তির ওপর পড়বে না—ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে গোটা বিশ্বের যোগাযোগ, নেভিগেশন, বাণিজ্য ও বেসামরিক অবকাঠামো। সূত্র: আল-জাজিরা