মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের জামশা এলাকায় ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা এবং পুকুর খননকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও ড্রেজার মালিকের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ড্রেজারের পাইপ ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় পক্ষই স্থানীয় প্রশাসন ও থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে।
ড্রেজার মালিক মো. লুৎফর রহমানের অভিযোগ, তিনি উপজেলা প্রশাসনের বৈধ অনুমতি নিয়ে মফিদুল রহমান নামের এক ব্যক্তির জমিতে পুকুর খননের কাজ করছিলেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে স্থানীয় লিটন মিয়া, ফরিদ ডাক্তারসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার ড্রেজারের প্রায় ৪ হাজার ফুট পাইপ কুপিয়ে নষ্ট করে ফেলে। যার আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা।
এছাড়া তারা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শিবালয়ে এই পুকুর খনন নিয়ে চরম উত্তেজনা, ১০ লাখ টাকার ড্রেজারের পাইপ ভাঙচুর, পাল্টাপাল্টি মামলা তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা মো. লিটন মিয়া ও এলাকাবাসীর দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শিবালয় থানায় দায়ের করা এজাহারে (মামলা নং- ১৬) লিটন মিয়া উল্লেখ করেন, লুৎফর রহমান অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এর ফলে স্থানীয় কৃষকদের যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং আশপাশের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
গত ২ মে এলাকাবাসী তাকে বালু তোলা নিষেধ করলে তিনি উল্টো তাদের খুন জখমের হুমকি দেন। এমনকি স্থানীয় ভূমি অফিসের নিষেধাজ্ঞাও তিনি অমান্য করেন।
'মানিকগঞ্জ উন্নয়নের পথে' নামক একটি পেজে জানানো হয়, অবৈধ বালু উত্তোলনে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় জনতা এই পাইপ ধ্বংস করেছে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে উভয় পক্ষই বিচার চেয়ে আবেদন করেছেন। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।