মার্কিন এফ-৩৫ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত ও ‘শিকার’ হওয়ার যুগ শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ সপ্তম মাসে প্রবেশের প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, মার্কিন এফ-৩৫ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ‘শিকার’ হওয়ার এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশের যুগ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, যা একসময় দুঃস্বপ্ন বলে মনে হতো, এখন সেটিই প্রতিদিনের বাস্তবতা।
গালিবাফের এই মন্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের বক্তব্যের পর। ১৬ সেপ্টেম্বর এক সামরিক সম্মেলনে কেইন বলেন, ভবিষ্যৎ সংঘাতে মার্কিন সামরিক ইউনিটগুলোকে স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মুখে পড়ার এবং রিয়েল-টাইমে নজরদারির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
কেইন বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের হাতে উন্নত নজরদারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রযুক্তি থাকায় মার্কিন বাহিনীর অবস্থান গোপন রাখা কঠিন হয়ে উঠবে। তাঁর বক্তব্যে যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা ও উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টি উঠে আসে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সউদী আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। প্রতিবেদনটি এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের সময় বিপুল পরিমাণ মার্কিন গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের মজুতে কৌশলগত ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং সেগুলো পুনরায় সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎপাদনগত বাধা দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষ করে সলিড রকেট মোটর, উচ্চমানের বিস্ফোরক ও প্রপেল্যান্ট এবং দক্ষ উৎপাদনকর্মীর ঘাটতিকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পেন্টাগন মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনের কিছু মূল্যায়নের সঙ্গে প্রতিরক্ষা দপ্তর দ্বিমত জানিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখে অভিযান পরিচালনা ও অস্ত্র সরবরাহের সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
গালিবাফের এফ-৩৫ ও এফ-১৫ নিয়ে মন্তব্য মূলত ইরানের রাজনৈতিক অবস্থান ও যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য। মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা ‘শিকার’ হওয়ার বিষয়ে তাঁর দাবির সবগুলো দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তথ্যসূত্র: মেহের নিউজ, এপি