মুহাম্মদ রুহুল আমীন-এঁর কবিতা গুচ্ছ


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ / ০ Views
মুহাম্মদ রুহুল আমীন-এঁর কবিতা গুচ্ছ

ফুলচাষি
– মুহাম্মদ রুহুল আমীন
পয়সা দিয়ে খরিদ করে
ফুল নিয়ে একরাশি,
প্রিয়জনের সামনে গিয়ে
দাও অমলিন হাসি।
প্রিয়জনও সাদরে তা
গ্রহণ করে হেসে,
ফুলের রমণীয় রঙে
হৃদয়টি যায় ভেসে।
বিয়ে, বিদায়, সম্মাননা
শ্রদ্ধা নিবেদনে,
ফুল অপরিহার্য জিনিস
সকল আয়োজনে।
​কখনো কি জানতে চায় মন?
সৌন্দর্য-পিয়াসী!
পরম মমতায় চাষ করে
কোথা'র অধিবাসী?
হ্যাঁ, সে ফুল উৎপাদন করে
আমার গাঁয়ের চাষি,
পাপড়ির আড়ালে ঢাকা
তার কষ্টের ইতিহাসই!

শিশির
নাজুক ঘাসের শরীর জুড়ে
মুক্তোদানার মেলা,
আলোর পরশ পেলে দেখায়
স্বচ্ছ রূপের খেলা।
​মাটির বুকে পড়লে শিশির
হারায় রূপের জ্যোতি,
সবুজ পাতায় বন্দি যেন
অপূর্ব সব মোতি!
​সূর্য মামার প্রতাপ দেখে
লুকায় তারা কোথায়?
সন্ধ্যা বেলা তারাই আবার
ফেরে ঘাসের পাতায়।

শুকরিয়া জ্ঞাপন
ভেবে কী দেখেছো একবার? শ্রষ্টা কতো মহান?
শেষ করতে পারবে কী গণনা, কী করেছেন দান?
কোটি কোটি অনুগ্রহ তার সব কিছু থাক বাদ,
শুধু যদি শ্বাস গ্রহণের জন্য দিই ধন্যবাদ।

একবার শ্বাস গ্রহণের জন্য যদি বলি একবার-
‘আলহামদুলিল্লাহ’ তাও শ্বাস নিতে হয় পাঁচবার।
বিনামূল্য অনায়াসে নিচ্ছি নিশ্বাস প্রশ্বাস,
প্রতিক্ষণে অনুভবে প্রগাঢ় হচ্ছে বিশ্বাস।
হয়ে যাচ্ছি মহা ঋণে নিরন্তর অবরুদ্ধ,
কেবল মুক্তির উপায় যদি হতে পারি শুদ্ধ।
জগৎ তার কৃপাই আবৃত, অসীম মহানুভব,
তাঁর পূর্ণ শুকরিয়া আদায় করা যে অসম্ভব!

প্রথম কবিতা লেখার অনুভূতি
শৈশব কৈশোরে সুধার ন্যায়
লাগতো সে সব বাণী,
খ্যাতিমান কবিদের প্রিয়
কাব্য গাথাখানি।
সেই গভীর অনুরাগ থেকে
কবিকুলের প্রতি,
কৌতূহল ও ভালোবাসার
জন্ম হতো অতি।
তখন হৃদয় জুড়ে জাগতো
কবিতা লেখার সাধ,

কী বা লিখি? তারা কিছু
লিখতে দেন নি যে বাদ।
লেখার কিছু বাকি আছে?
তা ভাবতাম সারাক্ষণ,
সেটা ভেবে কূল না পেয়ে,
হতাশ হতো এ মন!
ভাবতাম এতো কঠিন কাজ কী
সম্ভব আমায় দিয়ে?
ক্ষুদ্র মানুষ খুব ভয় পেতাম
কাব্য লিখতে গিয়ে!
​তবু একদিন সাহস নিয়ে
কলম তুলে নিলাম,
হায় দুঃখ! পেলাম না কোনো
বিষয় ও শিরোনাম।