

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও সম্পত্তির লোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় যশোর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—নিহত আলমগীরের জামাতা বাসেদ আলী পরশ এবং তার সহযোগী আমিনুল ইসলাম সাগর। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে সম্পত্তির লোভ ও ক্ষোভ: ঘাতক জামাতা পরশের নজর ছিল শ্বশুরের অঢেল সম্পত্তি ও দামি গাড়ির ওপর। পাশাপাশি স্ত্রীর প্রতি তার ব্যক্তিগত ক্ষোভও এই হত্যার অন্যতম কারণ। ব্যক্তিগত বিরোধ অপর আসামি আমিনুল ইসলাম সাগরের সঙ্গে নিহত আলমগীরের দীর্ঘদিনের পুরনো শত্রুতা ছিল। পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র পরশ ও সাগর একত্রে বসে এই হত্যার নীল নকশা তৈরি করেন। তবে তারা নিজেরা সরাসরি গুলিবর্ষণ করেননি; বরং ভাড়াটে খুনি (কিলার) নিয়োগের মাধ্যমে এই মিশন সম্পন্ন করেন।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেলে করে শংকরপুর এলাকা পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঘাতকদের একটি মোটরসাইকেল পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে মূল পরিকল্পনাকারীদের জালে তোলা সম্ভব হয়।
পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে জামাতা পরশ, সাগর এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের আরও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। ভাড়াটে খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম বর্তমানে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :