ইরানের স্বার্থ কিংবা নিরাপত্তায় নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে তার জবাবে 'আরও দ্রুত, ভয়াবহ এবং বেদনাদায়ক' আঘাত হানা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় গালিবাফ বলেন, তথাকথিত 'আনুপাতিক বা সমপরিমাণ জবাবে'র দিন এখন শেষ। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলো তো 'কেবল শুরু মাত্র'।
তিনি বলেন, "আমেরিকানদের নিশ্চয়ই এটুকু বুঝে নেওয়া উচিত যে সমপরিমাণ জবাব দেওয়ার দিন ফুরিয়েছে। তারা যদি এখনও তা না বুঝে থাকে, তবে সময় পার হয়ে যাওয়ার আগেই বোঝানো উচিত যে খেলার নিয়ম বদলে গেছে। এখন থেকে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে, যা হবে আরও দ্রুত, বহু গুণ ভারী ও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।"
ইরানের সামরিক আঘাতে মার্কিন ঘাঁটিগুলো চাপে পড়েছে দাবি করে গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুদ্ধক্ষেত্রের আসল চিত্র ঢাকতে মার্কিন কর্মকর্তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর আঞ্চলিক এই সংঘাতের সূচনা হয়। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে তেহরান।
পরবর্তীতে গত জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে শত্রুতা নিরসন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল।
তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে। ফলস্বরূপ, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিয়ম নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরান নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন বাহিনীও ইরানি অবস্থানের ওপর নিজেদের সামরিক অভিযান বজায় রেখেছে।