

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীনকে অন্যতম ‘নিরাপত্তা জামিনদার’ বা গ্যারান্টর হিসেবে দেখতে চায় ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যদি চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে বা আবারো বিশ্বাসঘাতকতা করে, তবে তার ফল অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি রাষ্ট্রদূত আব্দুর রেজা রহমানি ফাজলি এসব কথা বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর দুই সপ্তাহের জন্য বোমাবর্ষণ স্থগিত করার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই এই প্রতিক্রিয়া জানালো তেহরান।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমরা চাই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী দেশগুলো এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্ক একযোগে কাজ করুক। যাতে তারা নিশ্চিত করতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র আর নতুন করে যুদ্ধ শুরু করবে না।” তিনি চীন ও রাশিয়াকে ইরানের ‘প্রকৃত বন্ধু’ হিসেবেও অভিহিত করেন।
রাষ্ট্রদূত ফাজলি জানান, বেইজিংয়ের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রয়েছে। ইরান বিশ্বাস করে, এই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ও ভূমিকা রয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে দুই সপ্তাহের জন্য বিমান হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানকে আলোচনায় রাজি করাতে চীনের একটি বড় ভূমিকা ছিল। তবে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ইরান এখনো সন্দেহের চোখেই দেখছে।
রাষ্ট্রদূত ফাজলি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনোভাবে বিশ্বাসের অমর্যাদা করে বা চুক্তি লঙ্ঘন করে, তবে ইরান পাল্টা আঘাত (Fightback) করতে দ্বিধা করবে না এবং তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চরম ‘অনুশোচনা’ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ট্রানজিট ফি আরোপের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত বা চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে বেইজিংয়ের ওপর তেহরানের এই ভরসা ওয়াশিংটনের একচেটিয়া আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে চীন যেভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে, তাতে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :