বিএফএসএর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন বাজার ও এলাকা থেকে সংগ্রহ করা শাকসবজির নমুনায় ১ দশমিক ১৬ থেকে ২ দশমিক ৩৭ পিপিএম পর্যন্ত সিসা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া একই নমুনায় ০ দশমিক ৩৩ পিপিএম ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি খাওয়ার বিকল্প নেই। তবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজার ও এলাকা থেকে সংগ্রহ করা শাকসবজির নমুনায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা, ক্যাডমিয়াম এবং ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
বিএফএসএর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন বাজার ও এলাকা থেকে সংগ্রহ করা শাকসবজির নমুনায় ১ দশমিক ১৬ থেকে ২ দশমিক ৩৭ পিপিএম পর্যন্ত সিসা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া একই নমুনায় ০ দশমিক ৩৩ পিপিএম ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু নমুনায় ই-কোলাই, ফিকাল কলিফর্ম এবং সালমোনেলা জীবাণুও শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিএফএসএ জানিয়েছে, শাকসবজিতে সিসার সহনীয় মাত্রা ০ দশমিক ৩ পিপিএম। অথচ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৩৭ পিপিএম পর্যন্ত সিসা পাওয়া গেছে, যা নির্ধারিত সীমার অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু দীর্ঘদিন শরীরে জমতে থাকলে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সিসা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করতে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়।
ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলা থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষার ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির তথ্য বলছে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এসব ক্ষতিকর উপাদান মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডায়েটিশিয়ান সিরাজাম মুনিরা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যে খাবার খেয়ে মানুষ সুস্থ থাকবেন, সেই খাবারে বিষ! ভাবা যায়! দেশের বর্তমান খাবারে ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিক, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক বা ভারী ধাতু থাকার বিষয়টি সামনে আসছে।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।