রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে দুটি নতুন ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রামুর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে টেনকনাফের রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়া এলাকার পাহাড়ে এ দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এছাড়া সারদার আদলে জঙ্গল সলিমপুরে হবে পুলিশ একাডেমি ও কেন্দ্রীয় কারাগার। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির’ এবং ‘চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে সভা’ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রঙ্গীখালী ও নোয়াখালীপাড়া নামে দুটি পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্নভাবে নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটে। এসব বন্ধে ওই এলাকায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে দুটি ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্প দুটি স্থাপন করা হলে ওই এলাকায় এ ধরনের অপরাধ নির্মূল হবে বলে সভায় মত দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবেলাসহ মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে যৌথভাবে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদারে ফেন্সিং বা কাঁটাতারের বেড়া পুনঃনির্মাণের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ক্যাম্পের বাইরে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা এবং সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন এবং কন্ট্রোল টাওয়ার ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। জরুরি কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। এ জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নির্ধারণ করা হয়েছে। সভায় আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন, ত্রাণ সহায়তা, মাদক, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং ক্যাম্পের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অপর সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে সন্ত্রাসের অভয়াশ্রম থেকে মুক্ত করে সুশাসন ও শৃঙ্খলার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে সারদার আদলে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তাদের জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে। এসব জায়গায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো স্থাপনা নির্মাণ করবে এবং এর মাধ্যমে ওই এলাকায় সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে। সলিমপুরের সরকারি জমি, পাহাড় শ্রেণির জমি কিংবা খাস জমি সুশাসনের আওতায় আনা হবে। জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বর্তমানে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের সমন্বয়ে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃতে সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে, সলিমপুরের সরকারি জমি সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে। সবকিছু একটা সুশাসনের মধ্যে নিয়ে এসে ওই জায়গাটি যে একটা সন্ত্রাসের অভয়াশ্রম ছিল, সেখান থেকে ওই জায়গাটিকে মুক্ত করা হবে এবং একটা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইজিপি, বিজিবি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, কোস্ট গার্ড ও এসআরবির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।