ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সরকারি সফরে তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি একটি বিশেষ ফ্লাইটে ইরানের উদ্দেশে রওনা হন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে স্পিকার এ সফরে অংশ নিচ্ছেন। তেহরানে অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি। সফর শেষে আগামী ৪ জুলাই দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এই সফর শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নয়; বরং বাংলাদেশ ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ধারাবাহিকতারও প্রতিফলন। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে বাংলাদেশের সংহতির বার্তাও বহন করবে এ সফর।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি শহীদ হন বলে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্তে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা (সুপ্রিম লিডার) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী ৩৬ বছর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর নেতৃত্বে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক কূটনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখেন। একই সময়ে ফিলিস্তিন প্রশ্ন, প্রতিরোধ অক্ষ (Axis of Resistance) এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে ইরানের প্রভাব বিস্তারে তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজার আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বের শতাধিক দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, সংসদীয় নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং কূটনীতিকরা অংশ নেবেন। এরপর কয়েক দফা শোকানুষ্ঠান শেষে আগামী ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।