নির্বাচন ও গণভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ক্যালে-ারের পাতায় উল্টোভাবে চলছে দিনক্ষণ গণনা। আর মাত্র ১৫ দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচনী উৎসবের আমেজে ভাসছে সারাদেশ।
ভোটের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উৎসবের মাত্রা ও উত্তেজনা। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন, ঘরে ঘরে যাচ্ছেন, উঠোন বৈঠক করছেন। সকাল কিংবা সন্ধ্যা। এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা- উপজেলার অলি-গলিতে পা রাখলে দেখা মেলে ভোট উৎসবের চিত্র। জেলা-উপজেলা শহরের অলি-গলিতে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানগুলো যেন হয়ে উঠেছে এক একটি ভোট ক্যাম্প।
সারাদিন চলছে কে কোন দলের প্রার্থীর সমর্থক, কোন প্রার্থী কেমন, কার জনপ্রিয়তা বেশি এসব আলোচনা। এমনকি অতীতে প্রার্থীদের কার ভূমিকা কেমন ছিল তা নিয়েও চলে বিশ্লেষণ। নির্বাচনের আগে থেকেই ভোটাররা অঙ্ক কষছেন কে কাকে ভোট দিবেন। তবে বিপদে আপদে যারা পাশে থাকবেন তাদেরকেই এবার নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে চলছে মিছিল-মিটিং। ইনকিলাবের জেলা, উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টাররা জানান, সর্বত্রই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা।
নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব। যে কোনো নির্বাচন এলেই বাংলাদেশের মানুষ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রামগঞ্জে নির্বাচনী উৎসবের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনের উন্মাদনার স্রোতে গোটা জাতি ভাসছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সেই উন্মাদনা চলছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের হাটবাজার, চায়ের দোকান, অফিস-আদালত, সড়ক মহাসড়কের মোড়সহ যেখানে মানুষের আগাগোনা সেখানেই চলছে ভোটের আলোচনা। কোন দল নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাবে, কোন আসনে কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন; কোন কোন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সেগুলো নিয়ে চলছে ভোটারদের মধ্যে হিসেব নিকেষ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।
২০২৪ সালের ৫ জুলাই ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন ভারতে। আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা পলাতক এবং দলটির এবার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, সিপিবিসহ প্রায় অর্ধশত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে। একদিকে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সারা দেশে চলছে জমজমাট নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। এবারের নির্বাচনে বড় আকর্ষণ মুক্ত পরিবেশে নির্বাচন। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিচ্ছেন, অভিযোগ পাল্টাঅভিযোগের তীর ছুঁড়ছেন; কিন্তু হিংসাত্মক তেমন কিছু ঘটেনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আসন্ন গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বাধীন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনগত সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ এবং কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন।
গোটা জাতি নির্বাচনী জ্বরে আক্রান্ত। প্রার্থী এবং সব মত পথের ভোটার ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। তারা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাও চালাচ্ছেন। অপ্রিয় হলেও সত্য যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয়ের পর দীর্ঘ ৫৫ বছরে বেশির ভাগ নির্বাচন ছিল বিতর্কিত। মূলত মুক্তিযুদ্ধের ২০ বছর পর প্রথম নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে। অতঃপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের ফলাফলে জনগণের মতের প্রতিফলন ঘটেনি। ভোট গ্রহণের আগেই বিজয়ী কারা হবেন সে তালিকা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল।
আর ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালে তিনটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে কার্যত দিল্লির নীল নকশায়। ওই সব নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না। ২০১৪ সালে প্রার্থী ও ভোটারবিহীন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালে আমিডামির নির্বাচন হয়েছে দিল্লির প্রণীত নির্বাচনী ফ্রেমওয়ার্কে। ফলে ভোটারগণ ভোট দিতে পারেননি এবং মানুষ কার্যত ভোটের অধিকার হারিয়ে ফেলেছিল। দীর্ঘদিন পর এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে ৩টি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনগুলোতে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে দেশের সর্ববৃহৎ দল বিএনপি অংশ না নেয়ায় তারা এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দেশ পরিচালনা করতে থাকে। আওয়ামী শাসন আমলে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন থেকে সকল প্রকার নির্বাচনে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
২০০৮ সালের নির্বাচনী ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালে নির্বাচনের নামে প্রহসন হওয়ায় মানুষ ধরেই নিয়ছিল ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করার রেওয়াজ উঠেই গেছে। কিন্তু এবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মানুষ ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে থাকে। তবে দেশি-বিদেশি একাধিক চক্র নির্বাচন ঠেকানোর লক্ষ্যে কোমর বেঁধে মাঠে নামে। কখনো আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূলে নয়; সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন, কখনো আগে সংস্কার পরে নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দাবিতে আন্দোলন করে ভোট পেছানোর চেষ্টা করেন। তাদের এই অপচেষ্টাকে পর্দার আড়াল থেকে ইন্ধন দেন কয়েকজন উপদেষ্টা। তবে সেনাবাহিনীর প্রধান ও প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচনের ব্যাপারে দৃঢ়তায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সে নির্বাচন ঘিরে নগর-বন্দর, গ্রামগঞ্জে মানুষের মাঝে বিরাজ করছে আনন্দ-উল্লাস।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই ভোটারদের ভিড় বাড়ছে; তেমনি দলের শীর্ষ নেতারা সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় নামায় ভোটাররা তাদের সমাবেশে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিলেট ও চট্টগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচারণা চালিয়েছেন। আজ তিনি ময়মনসিংহ যাবেন নির্বাচনী প্রচারণায়। অন্যদিকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান উত্তরাঞ্চল সফর করে এসে বর্তমানে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল সফর করছেন। জামায়াতের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ওই সব সমাবেশে অংশগ্রহণ করছেন। এবারের নির্বাচনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের শীর্ষ নেতাদের প্রচারণা নিয়ে চায়ের টেবিলে ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নিজেদের মতো করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের নিয়েও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।
১৭ বছর পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের দিকে হাঁটছে দেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হতেই শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জে ছুটছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণসংযোগের পাশাপাশি ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছেন।
নির্বাচন নিয়ে গবেষণা করেন এমন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের মানুষে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেবেন এমন পরিস্থিতি অতীতে ছিল না। কিন্তু হাসিনা পালানোর পর নির্বাচন হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করার উদ্যোগ দিয়েছে। ফলে নির্বাচন পাগল মানুষ নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মেতে উঠেছেন।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী ৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়েছেন। পবা উপজেলার হুজুরিপাড়া ও পাকুরিয়া মাঠে তিনি কৃষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় ও সমর্থন কামনা করেন। মিলন নির্বাচিত হলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি উন্নয়ন, রাস্তা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সহ স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জনগণকে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান এবং বিএনপির ক্ষমতায় গেলে নারীদের ক্ষমতায়ন ও সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা-২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, এবারের নির্বাচন নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই অভ্যূত্থানের পরে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ নতুন যাত্রা শুরু করল এবং সেটি হচ্ছে এবারের নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। এসময় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, আনোয়ার হোসেন, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, শের আলম সান্টুসহ বিএনপি থানা, ওয়ার্ড, অঙ্গদলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার সাধারন মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার, মাগুরা থেকে জানান, মাগুরা ১ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মনোযার হোসেন খান বলেন, দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজিত মহিলা জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। মনোযার হোসেন খান দেশের গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। সভায় জেলা ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আনোয়ার জাহিদ, ফরিদপুর থেকে জানান, ফরিদপুর ৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলকে বিজয়ী করতে চরভদ্রাসনে বিএনপির উদ্যোগে বিশাল নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার রাতে গাজীরটেক ইউনিয়নের গাজীরটেক মোড় বেপারি বাড়িতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেতারা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হলে ফরিদপুর ৪ আসনকে একটি উন্নত ও মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
স্টাফ রিপোর্টার, গফরগাও (ময়মনসিংহ) থেকে জানান, ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও) আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চুকে বিজয়ী করতে দত্তেরবাজার ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাগলা সাহেব আলী একাডেমী মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির (দক্ষিণ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম আরজু। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরে গফরগাঁও ও পাগলা থানায় বিএনপি নেতাকর্মীরা দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। সমাবেশে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও মতবিনিময় কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাসী বলেই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সারাদেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন টাঙ্গাইল ৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। গতকাল দুপুরে তোরাপগঞ্জের গপ্পের বাজার এলাকায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় গণসংযোগ চালায় রাজবাড়ী-১ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নূরুল ইসলাম। পরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন তিনি। এ সময় রাজবাড়ী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাড. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতির কারণে আজকে মানুষ তাদের লাল কার্ড দেখিয়েছে। একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে এ অঞ্চলের মানুষ এক জোট হয়েছে। রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার মানুষ দাড়িপাল্লা প্রতিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।
নোয়াখালী জেলা সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালী ৫ আসনে জনতার দলের প্রার্থী মো. শওকত হোসেন ওরফে “মানবিক শওকত”-এর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী গণসংযোগের সময় চিকিৎসার নামে নগদ টাকা বিতরণের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকায় তিনি টাকা প্রদান করে নিজের ছবি ও প্রতীকসংবলিত লিফলেট বিতরণ করেন। এ বিষয়ে শওকত হোসেন দাবি করেন, তিনি নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, আর প্রশাসন বলছে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোংলা সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাট ৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতের দাবিতে “জনগণের মুখোমুখি” অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোংলা শ্রমিক সংঘের মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম অংশ নেন। গতকাল সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক মোংলা উপজেলা কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও জাসদ মনোনীত প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেন এবং জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেন। বক্তারা গণতান্ত্রিক উত্তরণ, নির্বাচনী সংস্কার ও গণভোটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অষ্টগ্রাম-ইটনা (কিশোরগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমানের পক্ষে অষ্টগ্রামের বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ফজলুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া চান। বিএনপি নেতারা জানান, ধানের শীষের পক্ষে জনমত গঠনে এ ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলবে।
ধামরাই (ঢাকা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ধামরাইয়ে ঢাকা-২০ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিনের পক্ষে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রচারণা সমন্বয়ক টিম আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। গতকাল সোমবার পৌরশহরের ঐতিহাসিক যাত্রাবাড়ি মাঠ থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে এ প্রচারণার সূচনা হয়। কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রদল নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। নেতারা জানান, ধানের শীষের পক্ষে জনমত গঠনে ধামরাইজুড়ে এ প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।
লালপুর (নাটোর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, নাটোরে-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও নাটোর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন আমাকে ভোট দিলে, ধানের শীষে ভোট দিলে আপনারা জিতবেন, তিনি বলেন বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে বিএনপি নারীদের জন্য ফ্যাসিলিটি দেশের মানুষের জন্য নিয়ে আসবে, এগুলে নিয়ে আর কোন দল আপনাদের সামনে আসবে না। গতকাল নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর বরমহাটি (এবি) ইউনিয়নে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণার একটি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা গাঁওদিয়া ইউনিয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ নির্বাচনী গণসংযোগ লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠক করেছে। গতকাল সকালে উপজেলার গাঁওদিয়া এক নম্বর ওয়ার্ড লতিফ ঢালীর বাড়িতে এই উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সদরপুর (ফরিদপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ৪ কোটি মানুষকে ফ্যামেলি কার্ড দিয়ে দারিদ্র্য দূর করা হবে। গত রোববার রাতে সদরপুরে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপি নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। বৈঠকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, তার জীবন থাকা পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের শরীরে কেউ হাত দিতে পারবে না। গত রোববার সরাইল উপজেলার টিঘর গ্রামে এক জনসভায় তিনি ভোটার ও কর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
রুমিন ফারহানা নির্বাচিত হলে এলাকার ১৯টি ইউনিয়নকে মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি হাঁস প্রতীককে উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুর ২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ড. মো. জালাল উদ্দিন বলেছেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক দল, সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় দল। দীর্ঘদিন মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। তারা ধানের শীর্ষে ভোট দিবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের মাঝে ভোটের আমেজ বিরাজ করছে। তারা চায় জনপ্রিয় দল বিএনপি’র প্রার্থী জিতবে। আমরা মনে করি বিপুল ভোটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থীরা জিতবে ইনশাআল্লাহ ।