সীমান্ত পথে আসছে অস্ত্রের চালান যাচ্ছে খুলনায় সন্ত্রাসীদের হাতে


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০২৬, ৪:২০ পূর্বাহ্ণ /
সীমান্ত পথে আসছে অস্ত্রের চালান যাচ্ছে খুলনায় সন্ত্রাসীদের হাতে

খুলনায় অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়ছে। টার্গেট কিলিং থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, আধিপত্য দ্বন্দ্বে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার উদ্বেগ ছড়াচ্ছে।

সেই সঙ্গে অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তপথে আসছে মাদক ও অস্ত্রের চালান।

সর্বশেষ গতকাল সাতক্ষীরা থেকে বাসযোগে ঢাকায় নেওয়ার পথে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ৯৬ রাউন্ড গুলিসহ সুরাইয়া পারভিন সুমি নামে নারী পাচারকারীকে আটক করে পুলিশ।

জানা যায়, বুধবার রাতে খুলনা ডাকবাংলো মোড়ে রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, সন্ত্রাসীদের হাতে শটগান ও পিস্তল। পরে পিস্তলসহ অশোক ঘোষ নামের এক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়।

এ ছাড়া ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম টুটপাড়ায় রাকিব হোসেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি আফিলগেটে সোহেল, ২৭ ফেব্রুয়ারি দিঘলিয়ার সেনহাটিতে যুবদল নেতা মুরাদকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত এক মাসে খুলনায় ১১টি ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ৫ মার্চ লবণচরা এলাকায় হাবিবুর নামে এক যুবককে গুলি, ১ মার্চ জাহিদুর রহমান সড়কে আবদুল আজিজ, ১৮ ফেব্রুয়ারি বান্ধাবাজার এলাকায় আয়নুল, ৮ ফেব্রুয়ারি খানজাহান আলী থানা এলাকায় সৈয়দ আলমকে গুলি করা হয়। এ ছাড়া ৬ ফেব্রুয়ারি শেখপাড়া লোহাপট্টিতে সাজ্জাদ হোসেনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাশ বাক্স লুট ও তার বাড়িতে গুলি করা হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি চাঁদার দাবিতে সান্ধ্য বাজারে ব্যবসায়ী আশা শেখকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

অপরাধ বিশ্লেষক অ্যাড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালে আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও লাইসেন্সধারী অনেক ব্যক্তির অস্ত্র লুট হয়। যা এখনও উদ্ধার হয়নি। সীমান্ত পথেও অস্ত্রের চালান আসার খবর রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এসব  অবৈধ অস্ত্র কারা কীভাবে পাচার করছে তার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান ও অস্ত্রের উৎস সন্ধান করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।