সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ইইউ


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ /
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ইইউ

ইভার্স ইজাবস

বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রস্তুত— এমনটাই জানিয়েছেন সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রতিনিধিদলের প্রধান ইভার্স ইজাবস। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ইইউয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

ইইউয়ে প্রধান পর্যবেক্ষক জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম অংশীদার বাংলাদেশ। ফলে এ দেশের কল্যাণ সহযোগিতা করতে সংস্থাটি সব সময় প্রস্তুত। জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পর্যায়ক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০০ সদস্য আসবে বলেও জানান তিনি। এদিন নির্বাচনের চালেঞ্জ নিয়ে সিইসির সঙ্গে কথা হয় বলে জানান ইভার্স।

ইইউ প্রতিনিধি দল প্রধান জানান, তারা মূলত নির্বাচনের পদ্ধতিগত বিষয়গুলোর ওপর জোর দেবেন। এর মধ্যে রয়েছে- ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা, সামগ্রিক নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইইউ প্রতিনিধি দলকে বর্তমান পরিস্থিতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সঙ্গে আয়োজন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে ইসি আমাদের জানিয়েছে। তবে আমাদের বিশ্বাস, কমিশন এই বিষয়গুলো দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে। তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশ একটি বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময় দেশ। তাই তারা কোনো নির্দিষ্ট এলাকা নয়, বরং সারা বাংলাদেশের ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন ডেপুটি চিফ অবজারভার ইন্টা লাসে, লিগ্যাল এনালিস্ট ইরিনি-মারিয়া গুনারি এবং নির্বাচন বিশ্লেষক ভ্যাসিল ভাশচানকা।

এদিকে, বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে পঞ্চম দফা আলোচনার পর ব্যাপক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার (পিসিএ) মূলনীতি চূড়ান্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে, ঢাকা এবং সিলেটে বুধবার আলোচনার পর উভয় পক্ষ চুক্তির মূলনীতি চূড়ান্ত করে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় বহির্মুখী কর্ম পরিষেবার এশিয়া-প্যাসিফিকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস পাওলা পাম্পালোনি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আলোচনার সময় শারীরিকভাবে এবং ভার্চুয়ালভাবে উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের প্রতিনিধিরা বৈঠকে ড. ইসলামকে সহায়তা করেন।

বৈঠককালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক সম্পর্কিত বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, যার মধ্যে রয়েছে পিসিএ চুক্তি, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন এবং গণভোট, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে গঠনমূলক, দূরদর্শী এবং ফলাফলমুখী সম্পর্কের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের ওপর জোর দেন। মিসেস পাম্পালোনি বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং উল্লেখ করেন যে একটি সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণের পরে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা ঢাকা এবং বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক ব্লকের মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।