দেশ স্বাধীন হয়েছে আজ ৫৪ বছর। পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর হাত থেকে মানুষের স্বাধিকার অধিকার আর স্বাধীনতা ফিরে পেতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গ-বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের জেল খানায় থাকা কালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে। ২৫ মার্চ মধ্য রাতের পর পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বংগ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দী করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হল বেগম রোকেয়া হলের হাজার হাজার ছাত্রীকে আটক করে নিয়ে যায় ক্যান্ট্রনমেন্টে, হুকুম দিয়ে যায় পূর্ব পাকিস্তানীদের হত্যার। পাক সেনা প্রধান কসাই জল্লাদ টিক্কা খান ভোর রাতে সেনা বাহিনীকে রাজধানী ঢাকার ঘুমন্ত মানুষের ওপর আক্রমনের নির্দেশ দিয়ে যায় হত্যাযজ্ঞ চালতে। ২৬ মার্চ ১৯৭১ সকাল হতে না হতেই গুলি করে হত্যা, ধরপাকড় আর শুরু করে। দেশবাসী দিশেহারা। ঢাকা থেকে যে যেদিকে পারে পালাতে থাকে জীবন বাঁচাতে। জলে স্থলে যান বাহনে পালাতে থাকে পংক পালের মতো। পাকিস্থানী লুটেরা দস্যু বর্গীদের হাত থেকে পূর্ব পাকিস্থানের নাগরিকদের রক্ষা বা বাঁচাতে সেই মুহূর্তে কোন মহান সাহসী ব্যাক্তি ছিলেন না যিনি দুর্দিনে জাতির জন্য ঢাল হয়ে পাশে দাঁড়াবেন। রাজধানী ঢাকায় পাক বাহিনীর মিলিটারীদের ট্যাংক, সাঁজোয়া গাড়ির ছুটাছুটি আর গোলাগুলি। এই অবস্থার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে ২৬ মার্চ।
জাতির দুর্দিনে কাণ্ডারী হয়ে সাহসী ভূমিকায় জীবনকে বাজি রেখে মেজর জিয়া দেশের ক্রান্তি লগ্নে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, আমি মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা করছি। শুরু হয়ে গেল মুক্তি যুদ্ধ। যুদ্ধ চললো নয় মাস ধরে। তারপর এলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে ঢাকার সাবেক রেসকোর্স ময়দান বর্ত্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকাল মুক্তি যুদ্ধের যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনা বাহিনী আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মসমর্পণ করে। সাথে সাথে বিশ্বের মানচিত্রে আমাদের মাতৃ ভূমি বাংলাদেশের জন্ম হয়। দেখতে দেখতে অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে এসেছে আজকের মোহনায়। পাকিস্তানী সেই ২১-২২ কোটি পতি পরিবার থেকে ৫৪ বছরে এখন পর্যন্ত ৪ কোটিরও বেশি পরিবার এদেশের নিরীহ খেটে খাওয়া তথা কৃষক মজুরের রক্ত শুষে খেয়ে বড় হয়েছে, কোটিপতি হয়েছে। কত দলের কত সরকার এসেছে আর গেছে, পেট পুরে ফুলে ফেঁপে রাতারাতি কলা গাছ হয়ে গেছে।
কিন্তু পরিবর্তন হয়নি কেবল এ দেশের সংখ্যা গরিষ্ট ৭০ থেকে ৮০ ভাগ খেটে খাওয়া মানুষ কৃষকের। সেই ১৯৭২ সালের আওয়ামীলীগ সরকার থেকে ২৪'এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পর্যন্ত যতগুলো সরকার এসেছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী কৃষকের ক্ষতি করেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার। এদেশের মানুষের পেশা কৃষি কাজ। অর্থনীতি কৃষি নির্ভর।সেই আদিকাল থেকে এ পেশাকর্ম চলে আসছে। চলবে পৃথিবী ধ্বংসের আগপর্যন্ত। পাকিস্তান আমলে সবচেয়ে শোষণ বঞ্চনার শিকার হয়েছে কৃষি পেশার মানুষ। এখনো সেই দাহারা অব্যাহত। বাংলাদেশে সরকার থেকে শুরু করে আমলা, চাকুরিজীবি ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আজো কৃষক শ্রেণীকে শোষণের যাতাকলে পিষছে। আর এ কাজে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে সক্ল সরকার। কিন্তু কিভাবে সেই জ্বলন্ত সত্য কথাটি দেশের মানুষকে শোনাব।
দেশ স্বাধীনের পর কৃষকের চাষ কৃষির উপয়াদান সার ঔষধ ইত্যাদির মূল্য অনেক অনেক সূলভ ছিল। কৃষকের কৃষি পণ্য ধান পাট,গম, ছোলা মশূরি, তিল, সরিষা, আলু, পেঁয়াজ, রসূন ইত্যাদি পণ্যের দাম বা মূল্য তুলনামূলক ভাবে কম থাকলেও সে সময় চাষী কৃষকের স্বস্তি ছিল। ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ ড্যাপ প্রভৃতি সার ক্রয় ক্ষমতার ছিল কৃষকের। কিন্তু আজকের কি অবস্থা! তখনকার ইউরিয়া সারের বস্তা ফ্যাসিস আওয়ামীলীগ সরকার ৩৭০-৪০০ টাকা থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে ১৩০০-১৪০০ টাকায় তুলে দিয়ে গেছে, টি এস পি ৫০০-৬০০ থেকে ২২০০-২৪০০ টাকা,পটাশ সার বস্তা প্রতি মূল্য করে রেখে গেছে ১৮০০-১৯০০ টাকায়। আর কীটনাশক ঔষধের কথা সে কথা আর মুখে বলা যাবেনা। ৫০-৫৪ বছরে বাংলাদেশের দেশ প্রেমিক সরকার গুলো দেশের উন্নয়নের নামে শোষণ করেছে কৃষক চাষীকে।
প্রায় ৮০ ভাগ কৃষকের রক্ত মাংশ কুরে কুরে খেয়ে কোটি কোটি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে আজ। আর কৃষক সম্প্রদায় উৎপাদিত ফসলের ন্যার্য মূল্য, দাম না পেয়ে দেনা শোধ করতে জমা-জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে গেছে অনেকেই। অপর দিকে ক্ষমতায় আসা সরকার গুলো ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকার জন্যে আমলারুপী হায়েনা কুত্তাদের পেট ভরিয়ে সন্তুষ্ট রেখেছে। তাদের অযৌক্তিক অমানবিক অন্যায় আবদার পূরণ করেছে। আমলা, চাকুরিজীবি,সোনার দেশপ্রেমিক কুত্তাদের বেতন বাড়াতে বাড়াতে একদম সপ্তম আসমানে তুলে দিয়ে গেছে। মাঝখািশদিয়ে গহীন গহবরে গিয়ে পড়েছে প্রায় ৮০ ভাগ চাষবাষ করা খেটে খাওয়া মানুষ।
ব্রিটিশ আমল গেছে পাকিস্তান আমল গেছে আর আজ বাংলাদেশ আমল। ব্রিটিশ আমল চলে গেল দিয়ে গেল পাকিস্তান-ভারতের স্বাধীনতা। ১৯৪৭ এর পর ১৯৪৮। পাকিস্তানী কুত্তাদের খাবলানিতে শুরু হলো আন্দোলন তথা ভাষা আন্দোলন। শহীদ হলো ৫২'র ভাষা আন্দোলনে সালাম, জব্বার,রফিক,শফিক আরো অনেকে। রক্তের সাগর পেরিয়ে এক সময়ে আমাদের স্বাধীনতা দেশকে পাওয়া। ২৪'এর গণ অভ্যূত্থানে বিদায় হয়েছে দস্যূ তস্কর ডাকাত ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসররা। ওরা পালিয়ে গেলেও তাদের পাতানো মানব রাষ্ট্রযন্ত্র এখনো বহাল তবিয়তে। এসেছে বিশ্ববরেণ্য বাংলাদেশের কৃতি সন্তান ড মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর অন্তর্বর্তী সরকার। আসছে ১২ ফেব্রুয়ারী'২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। বর্তমানে আমাদের সরকারী কর্মচারীদের বেতন স্কেল সর্বোচ্চ ৭৮০০০ হাজার টাকা আর সর্বনিম্ন ২০- ৮২৫০ টাকা। মাঝে ৬৬০০০ হাজার, ৫৬০০০, ৫০০০০, ৪৩০০০, ৩৫০০০, ২৯০০০, ২৩০০০, ২২০০০, ১৬০০০, ১২৫০০,১১৩০০, ১১০০০, ১০২০০, ৯৭০০, ৯৩০০, ৯০০০, ৮৮০০, ৮৫০০ এবং নিম্ন ৮২৫০ টাকা। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে ১ বছর ৬ মাসের মতো। এরই মধ্যে কত শতো হাজারবার আমাদের সরকারী বেসরকারী কর্মচারী শকুনরা বেতন সহ নানাবিধ সুযোগ সুবিধা আদায়ে আন্দোলন করেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।
ইতোমধ্যে ড মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের কাছে শকুনরা আবারও নতুন বেতন স্কেল দাবী জানিয়ে পে-কমিশন গঠন করতে সক্ষম হয়েছে এবং যথারীতি কমিশন কর্তৃক বেতন স্কেল করে ফেলেছে যাতে বিগত বেতন স্কেল যা ছিল তার দ্বিগুণ দাবী করে দেখানো হয়েছে। বর্তমান বেতন স্কেল আমি উপরে উল্লেখ করেছি। এবার দাবী করা হয়েছে বর্তমান বেতন স্কেলের ডবল। সরকারী আমলা কর্মচারীদের আব্দার আমাদের জনপিয় সরকার নিশ্চয়ই পূরণ করবে বিশ্বাস। না করেই বা করবেন কি! দেশের যাদুকর তো সরকারী আমলা কর্মচারীরা। তাদের স্বার্থ আব্দার রক্ষা না করার ক্ষমতা কারো নেই। দেশের মানুষ বেঁচে থাকে কৃষকের উৎপাদিত খাদ্য খেয়ে। পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে শিল্প সামগ্রী। হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসেই কৃষকের লাথি মেরে কৃষি উৎপাদন সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি করে তাদের অতল গহ্বরে তলিয়ে দিয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত দুই বার। তিনিই প্রথম কৃষকের স্বার্থকে দেখেন এবং শোষণ এবং জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে খড়গ ধরেন। আর দেশ স্বাধীনের পর দেশ প্রেমিক শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমানের কৃষি কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে উলাশী যদুনাথপুর খাল খনন করে তাদের ভাগ্যের চাকাকে ঘুরিয়ে দেন। কিন্তু তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর সাথে সাথে কৃষকের সে ভাগ্যের চাকাকে থামিয়ে দেয়া হয়। এরপর ক্ষমতায় আসে কথিত স্বৈর শাসক এরশাদ তার আমলে কৃষকের কিছু স্বার্থ রক্ষাখয় কৃষিপণ্য সোনালী আশ পাটের ন্যার্য মূল্য দিয়ে। এখন কৃষককে পুঁতে ফেলেছে পালিয়ে স্মরণ কালের ফ্যাসিস্ট হাসিনা। তিনি এখন ভারতের নয়াদিল্লীতে বসে ফুরফুরে বাতাসে আরামে আছে। আর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সরলতার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আবার দেশের ৮০ ভাগ কৃষকের ২০ ভাগ্যকে খুবলে খুবলে খাওয়ার জন্যে সম্প্রতি পে-কমিশনের বড় শকুনরা যে ফাঁদ পেতে সরকারের টেবিলে সাবমিট করেছে তা কৃষককে একে বারে মেরে ফেলার মারণাস্ত্র।
দেশের শকুন আমলা ও সরকারী কর্মকর্তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাস্য 'এই ৫৪/৫৫ বছরে তোমরা আশি ভাগ কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে কি বরাদ্ধ দিয়েছ তার হিসাব দাও। জানি তোমরা দিতে পারবেনা, আর দেবেই বা কি ভাবে! ইতিহাসে পড়েছি মগেরদের কথা, বর্গীদের কথা। আজকের দিনে সেই সব বর্গী মগ রুপী শোষক দেশের সিংহাসনে পালাক্রমে বসে কৃষকের রক্তকে চুষে চুষে খেয়ে দাস বানিয়ে রেখেছো। কিন্তু হায়রে অভাগা কৃষক সম্প্রদায় তোমাদের বাঁচার কোন রাস্তা নেই। আজ যদি সেই মহান কৃষক দরদী নেতা শেরে-ই- বাংলা এ কে ফজলুল হক, শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান আর কথিত স্বৈরশাসক লেঃ জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বেঁচে থাকত তাহলে কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়নে দেশের বাজেটে কৃষক ভাতা সহ নানান সুবিধা দিয়ে তাঁদের স্বাবলম্বী করতেন।