বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্টে’ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিমানভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই এসব কর্মীকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মধ্য দিয়ে শ্রমবাজারটি নতুন করে চালু হবে। ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে।
গতকাল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব মালয়েশিয়া সরকারের ওপর রয়েছে। ওই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে এ শর্ত পরিবর্তন করা সহজ নয়। তবে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের স্বার্থ ও কর্মীদের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি এজেন্সি এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকায় ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪২৩টি এজেন্সির মধ্যে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় সুবিধাভোগী ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে বাকি এজেন্সিগুলোকে সুযোগ দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। ছ
য় মাসের ধারাবাহিক আলোচনার পর মালয়েশিয়া ২৫টি সরাসরি নির্বাচিত এজেন্সির পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিয়েছে। এর সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকবে। ফলে মোট ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।