মিটফোর্ডে হত্যাকাণ্ডে বিক্ষোভ, সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের কাছে দেশ ছেড়ে দেবো না- জামায়াত


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুলাই ১৩, ২০২৫, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ /
মিটফোর্ডে হত্যাকাণ্ডে বিক্ষোভ, সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের কাছে দেশ ছেড়ে দেবো না- জামায়াত

চাঁদাবাজি, হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ

রাজধানীর মিটফোর্ডে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডসহ সারা দেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবিতে গতকাল ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর শাখার উদ্যোগে রাজধানীর পৃথক স্থানে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণের সমাবেশে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের কাছে জামায়াতে ইসলামী দেশ ছেড়ে দেবে না। জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, খুনি, ধর্ষক, লুটেরা ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করবে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ : দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর মানুষ নিশ্চিত হয়েছে, সন্ত্রাসীদের হাতে আর কাউকে জীবন দিতে হবে না, কাউকে চাঁদা দিতে হবে না; কিন্তু দেখা গেছে আওয়ামী লীগের মতোই আরেকদল সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি শুরু করেছে। নিজেরাই নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীদের নৃশংসভাবে খুন করছে। তারা প্রতিদিন নির্বাচন চাইলেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে কথা বলছেন না। কারণ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ধর্ষক, খুনি তাদেরই পালিত।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জাতির সাথে তামাশা করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হয়নি। সরকারকে মনে রাখতে হবে তারা ক্ষমতায় বসেনি, তাদেরকে জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছে। জনগণের জানমাল, ইজ্জত রক্ষা করতে না পারলে অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, থানা থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নৈতিক দায়িত্ব ছিল পদত্যাগ করা; কিন্তু তিনি সেটি করেননি এমনকি আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি উন্নতিও করতে পারেননি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না মন্তব্য করে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সন্ত্রাসী কত বড় নেতা, চাঁদাবাজ কত বড় নেতা, কোন দলের নেতা তা না দেখে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ধর্ষক, খুনিদের গ্রেফতার করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, একটি দল ৫ আগস্ট-পরবর্তী দেশ গড়ার পরিবর্তে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ছিনতাই, ধর্ষণ, নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আসছে। দ্রুত নির্বাচন না দিলে দেশের অবস্থা আরো খারাপ হবে বলে তারা ঘোষণা দিয়ে এসব সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ধর্ষণ, খুনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আসছে। তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে, ধর্ষকের বিরুদ্ধে, খুনির বিরুদ্ধে কথা বলছে না; বরং পক্ষ নিচ্ছে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ প্রশ্রয় দেয়া পরিহার করতে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজকে দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যাবে না, ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। জনগণ আগামীতে কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ দলের হাতে দেশ তুলে দেবে না। তিনি সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক, ধর্ষক, খুনিদের বিরুদ্বে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করার আহ্বান জানান।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান ও শামছুর রহমান।

ঢাকা মহানগরী উত্তর : বিক্ষোভ মিছিল তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মগবাজারে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, যারা কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাদেরকে এ দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না; বরং আগামী নির্বাচনে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা: ফখরুদ্দীন মানিক ও ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।

জুলাই যোদ্ধাদের জাতীয় বীর উপাধি দিতে হবে : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের জাতীয় বীর উপাধি দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেও ফ্যাসিবাদের হাত থেকে জাতিকে মুক্ত করতে পারেনি। কারণ আওয়ামী লীগ বিরোধী দলমত রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে দমন-পীড়ন করেছে। কিন্তু ছাত্রদের নেতৃত্বে সব শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়। জাতি ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়। ছাত্র-জনতা গুলির সামনে বুক পেতে দিয়ে জীবন ও রক্ত দিয়েছে। তাই ছাত্র-জনতার সাহসিকতার মর্যাদা রাষ্ট্রকে দিতে হবে।

গতকাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা অঞ্চল) উদ্যোগে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের’ সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে এবং যাত্রাবাড়ী মধ্য থানা আমির অ্যাডভোকেট এ কে আজাদের পরিচালনায় সভায় আরো বক্তৃতা করেন, মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ও ঢাকা-৫ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, শহীদ আসলামের বোন শারমিন আক্তার, জুলাই যোদ্ধা (আহত) মোহাম্মদ ইউসুফ, শহীদ মাহাদী হাসানের পিতা জাহাঙ্গীর হোসেন, শহীদ নুর হোসেনের মা নুরুন্নাহার বেগম, জুলাই যোদ্ধা (আহত) শাহ আলম, শহীদ মুনতাসীর রহমানের পিতা সৈয়দ গাজিউর রহমান, ঢাকা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক ও মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, যাত্রাবাড়ী পশ্চিম জোনের পরিচালক মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ সিরাজুল হক, যাত্রাবাড়ী থানা আমির অধ্যক্ষ সাদিক বিল্লাহ প্রমুখ।