

মো: নুরুল আমিন ,সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর মৌজায় পৈতৃক সম্পত্তির ১৬ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সম্পত্তির মালিকপক্ষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ফরিদপুর গ্রামের শেখ আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মাহবুব আলম জানান, শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা গ্রামের জহুর আলী কারিকরের ছেলে রফিকুল ইসলাম, তার ভাই সফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় ভাড়াটে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে তাদের দীর্ঘ ৫০ বছরের অধিক সময় ভোগদখলে থাকা জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন। তারা জোরপূর্বক জমির সীমানা নির্ধারণ ও খুঁটি পুঁতে দখল নিতে চাইলে বাধা দিলে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করে হামলার চেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মাহবুবের দাবি-রফিকুল ইসলাম তিন দিনের মধ্যেই জমি দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণের হুমকি দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বিবাদীপক্ষ দলিল অনুযায়ী মাত্র ২ শতাংশ জমির মালিক হলেও ভুল বুঝিয়ে আরএস ২৬৯ ও ৩৮৩ খতিয়ানের হাল ২১১ ও ৮০২ দাগ থেকে মোট ১৬ শতাংশ জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। বিষয়টি জানার পর বাদীপক্ষ কালিগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দপ্তরে রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৩ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে হাজির হতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
দাখিল করা দরখাস্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর মৌজার আরএস ২৬৯ ও ৩৮৩ খতিয়ানে মেছের আলী শেখের ওয়ারিশদের প্রাপ্ত জমির বাইরে গিয়ে ২১১ দাগে অতিরিক্ত ০.০৬৭৬ একর ও ৮০২ দাগে ০.০৭৩৪ একর জমি দলিলবহির্ভূতভাবে রফিকুল ইসলাম রেকর্ড করেছেন—যা বাদীপক্ষ ‘অবৈধ রেকর্ড সংশোধন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ১৯৯৮ সালে মাহবুবের দাদার কাছ থেকে সম্পত্তিটি ক্রয় করি। তবে নানা প্রতিকূলতার কারণে দখল নিতে পারিনি। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। এখন শান্তিপূর্ণভাবে দখল নিতে কাজ করছি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :