ভারতে আরও বেপরোয়া হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা, এক মুসলিমকে খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনি দিল


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ৭:১৭ অপরাহ্ণ /
ভারতে আরও বেপরোয়া হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা, এক মুসলিমকে খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনি দিল

বিহারের গোপালগঞ্জ জেলায় নিষিদ্ধ মাংস বহনের সন্দেহে এক মুসলিমকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনি দিয়েছে একদল উন্মত্ত জনতা। নগর থানার অন্তর্গত মাথিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে এবং পুরো বিষয়টি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা হয়। ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম আহমেদ আজাদ, তিনি প্রতিবেশী সিওয়ান জেলার বারহারিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আজাদ মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন, তখন একদল লোক তাকে কেবল সন্দেহের বশে থামায়। কোনো আইনি কর্তৃত্ব ছাড়াই তারা তাকে তল্লাশি করে এবং দাবি করে যে তার কাছে থাকা একটি বাক্সে নিষিদ্ধ মাংস পাওয়া গেছে।

ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আরও মানুষ জড়ো হয়। তীব্র শীতের মধ্যে আজাদকে একটি খুঁটিতে বেঁধে জনসমক্ষে মারধর করা হয়। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমরা তাকে নিষিদ্ধ মাংসসহ ধরেছি। কাছেই একটি মন্দির আছে এবং তার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল।’’ অন্য একজন দাবি করেন যে মোটরসাইকেলটি চুরি করা বলে মনে হচ্ছে, যদিও এর কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় দোকানদার জানান, দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ। তিনি বলেন, ‘‘সে কাঁদছিল এবং সাহায্যের জন্য আকুতি জানাচ্ছিল, কিন্তু মানুষ ভয়ে এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি।’’এই ঘটনায় বিশেষ করে এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক স্থানীয় মুরুব্বি বলেন, ‘‘আজ আহমেদ আজাদ আক্রান্ত হয়েছেন, কাল যে কেউ হতে পারে। রাস্তার সাধারণ মানুষ বিচারক ও পুলিশের মতো আচরণ করছে।’’

ভিডিওটি অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন যে, কীভাবে সাধারণ মানুষ কারও অপরাধ ও শাস্তি নির্ধারণ করতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের কিছু বাসিন্দাও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আজাদকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং মোটরসাইকেল ও কথিত মাংস জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে আজাদকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

নগর থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। লোকটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।’’ তবে কেন হামলাকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়নি, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সন্দেহের বশে মুসলিমদের ওপর গণপিটুনির এই ঘটনাগুলো একটি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ধরণ প্রতিফলিত করে। পাটনার এক অধিকারকর্মী বলেন, ‘‘এটি আইন প্রয়োগ নয়, বরং ঘৃণা থেকে জন্ম নেওয়া সহিংসতা। কর্তৃপক্ষ যখন নীরব থাকে, তখন এ ধরনের গোষ্ঠীগুলো আরও উৎসাহ পায়।’’