ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতীয় রাজনীতিবিদের প্রচন্ড চাপ


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ /
ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতীয় রাজনীতিবিদের প্রচন্ড চাপ

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থান নেওয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবিতে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ বাড়ছে। একসময় যাকে দিল্লি কৌশলগত মিত্র ও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখেছিল, সেই শেখ হাসিনার উপস্থিতি এখন ক্রমেই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। এই চাপের নেতৃত্বে সামনে এসেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইতেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ওয়াইসি বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে তথাকথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার চালানো হচ্ছে, অথচ দিল্লির ভিআইপি জোনে বসে থাকা একজন ক্ষমতাচ্যুত ও বিতর্কিত শাসককে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, যদি গরিব বাংলাদেশিদের তাড়ানো যায়, তবে দিল্লিতে থাকা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে কেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না?

ওয়াইসির এই বক্তব্য ঘিরে জনসভায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে সভাস্থল। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন, বিহার বা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রকৃত অর্থে কোনো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নেই। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আসল বাংলাদেশি বসে আছেন দিল্লির লুটিয়েন্স বাংলোয়।

ভারতের বিরোধী দলগুলোও এই ইস্যুকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে। তাদের প্রশ্ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত একজন পলাতক শাসক কেন ভারতের করদাতাদের টাকায় ভিআইপি নিরাপত্তা পাবেন?

বিশেষ করে যখন আইপিএল বা অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ক্রিকেটার ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য ভিসা ও প্রবেশাধিকার কঠোর করা হচ্ছে, তখন শেখ হাসিনার জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়াকে দ্বিমুখী নীতি হিসেবে দেখছেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি যখন বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ অভিবাসন ও বাংলাদেশি ইস্যুকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার করছে। তখন শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি মোদি সরকারের জন্য কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় দিক থেকেই চাপ সৃষ্টি করছে। ওয়াইসির প্রকাশ্য দাবি এই চাপকে আরও দৃশ্যমান করেছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে। তাকে ফেরত পাঠানো হবে কি না—এই প্রশ্ন এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, দিল্লির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতেও উঠে এসেছে।