

অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরির দেখা পেলেন ইসাখিল। সাত দিন আগেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি আসতে পারত। সিলেটে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে বিপিএল অভিষেক ম্যাচে তিন অঙ্কের খুব কাছে পৌঁছেও থেমে যেতে হয়েছিল তাকে। সেদিন বাবার সঙ্গে গড়া দারুণ জুটিতে সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখলেও ৯২ রানে আউট হয়ে হতাশ হতে হয় তরুণ ব্যাটসম্যানকে।
ম্যাচ শেষে অবশ্য ইসাখিল জানিয়েছিলেন, সেঞ্চুরি না পাওয়ার কোনো আক্ষেপ নেই, দলের জয়েই তিনি সন্তুষ্ট। তবে আকাঙ্ক্ষা যে ছিল, সেটির প্রমাণ মিলল বিপিএলের তৃতীয় ম্যাচেই। রবিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে দুর্দান্ত এক শতরান উপহার দেন ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।
জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকায় বিপিএল ছেড়ে চলে গেছেন তার বাবা মোহাম্মদ নবি। ফলে বাবার সামনে সেঞ্চুরি করার সুযোগ হয়নি। তারপরও বিশ ওভারের ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি, দিনটি যে ইসাখিলের জন্য বিশেষ।
ইনিংস ওপেন করতে নেমে পুরো ২০ ওভার ব্যাট করে ৭২ বলে ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন ইসাখিল। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও ১১টি ছক্কা। এবারের বিপিএলে এই প্রথম কোনো ব্যাটসম্যান এক ম্যাচে ছয়ের বেশি ছক্কা মারলেন। এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৯তম ম্যাচে এসে বিপিএল পেল আরেকটি শতক।
ইসাখিলের এই ইনিংসের শুরুটা ছিল ধীরগতির। পাওয়ার প্লেতে ২৫ বল খেলে করেন মাত্র ২০ রান। দশ ওভার শেষে তার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৫ বলে ২৩। ফিফটি করতে লেগে যায় ৫০ বল। তবে এরপরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। পরের ২০ বলেই তুলে নেন দ্বিতীয় পঞ্চাশ, যেখানে ছক্কাই ছিল ছয়টি।
ইনিংসের শেষ তিন ওভারে এসে তার রান ছিল মাত্র ৬৭। তখনও সেঞ্চুরি অনেক দূরের মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষের ওভারগুলোতে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। ১৮তম ওভারে নাহিদ রানাকে ছক্কা, পরের ওভারে ফাহিম আশরাফকে ছক্কা ও চার মারেন। শেষ ওভারে আকিফ জাভেদকে টানা ছক্কা–চার–ছক্কায় উড়িয়ে দেন, যার একটি ছিল নো বলের ফ্রি হিট। ওই ওভার থেকেই আসে ২৮ রান।
হায়দার আলির সঙ্গে ৭৪ বলে ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন ইসাখিল। সেখানে হায়দার আলির রান ছিল ৩২ বলে ৪২, আর ইসাখিলের ৪২ বলে ৮৬ রান। এই ইনিংসের সুবাদে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ২০ ওভারে ২ উইকেটে তোলে ১৭৩ রান।
আপনার মতামত লিখুন :