ইরান অভিমুখে এবার মার্কিন বিমানবাহী রণতরির যাত্রা


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ /
ইরান অভিমুখে এবার মার্কিন বিমানবাহী রণতরির যাত্রা
  • পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার আহ্বান, বিশ্বশান্তি নিয়ে আর ভাবছি না, নোবেল পাইনি আট যুদ্ধ থামিয়েও…

পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে ইরান অভিমুখে রওনা দিয়েছে বিমানবাহী অত্যাধুনিক মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে সব ধরনের ‘অপশন’ বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। সূত্র : আরব নিউজ।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ চীন সাগর পথকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমানবাহী রণতরি। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ও দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুমকির প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রের কেবল নিউজ নেটওয়ার্ক নিউজনেশনের এক খবরে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের নির্দেশে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ দক্ষিণ চীন সাগর ত্যাগ করে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হয়েছে। এ বহরে আরলি বার্ক শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারও রয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর ইনস্টিটিউটের ক্যারিয়ার ট্র্যাকারের তথ্যানুযায়ী, এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন ছিল না। সক্রিয় ডিউটিতে থাকা ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপগুলোর মধ্যে আব্রাহাম লিংকনই ছিল ওই অঞ্চলের সবচেয়ে কাছাকাছি, যা স্কারবরো শোলের কাছাকাছি জলসীমায় অবস্থান করছিল। পেন্টাগনের ডিফেন্স ভিজ্যুয়াল ইনফরমেশন ডিস্ট্রিবিউশন সার্ভিস প্রকাশিত ফুটেজ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে আব্রাহাম লিংকন একাধিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮ জানুয়ারি লাইভ-ফায়ার ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফ্যালানক্স ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া বিমান পরিচালনা, সমুদ্রে জ্বালানি ও রসদ সরবরাহ, ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ প্রশিক্ষণ এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ মহড়াও চালানো হয়।

গত ১৬ জানুয়ারি রাতে রণতরি আব্রাহাম লিংকন মোতায়েনের খবরটি প্রকাশ পায়। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের ভিতরে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ এবং সেগুলোর প্রতি সরকারের দমনমূলক আচরণ মার্কিন রণতরি পাঠানোর সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এ বিষয়ে সৌদি আরবের দৈনিক আশারক আল-আউসাত সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক কলামে বিশ্লেষক আবদুর রহমান আল-রাশেদ লিখেছেন, ইরান চাইলে এখনো পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে পারে। পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা এবং সামরিক তৎপরতা থামালে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এড়াতে পারবে। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ইরানের অভ্যন্তরে আন্দোলনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। বিক্ষোভকে উসকে দিতে এসব দেশের গোয়েন্দা সংস্থা হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে।

বিশ্বশান্তি নিয়ে আর ভাবছি না, আট যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পাইনি : গেল বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় দারুণভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে তিনি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেছেন, ‘আটটারও বেশি যুদ্ধ বন্ধ করার পরও আপনার দেশ আমাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়নি। এই বিবেচনায় বলতে হয়, আমি এখন আর বিশ্বশান্তি নিয়ে ভাবার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।’ সূত্র : এএফপি।

নোবেল পুরস্কার নিয়ে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় গত রবিবার ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে বলেন, ‘বৈশ্বিক শান্তি নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ জরুরি।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘শান্তি অন্য সবকিছুর তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক ও সুষ্ঠু বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছেন।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, যতদিন পর্যন্ত না আমাদের হাতে গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকছে, ততদিন বিশ্ব সুরক্ষিত থাকবে না। এদিকে নোবেল পুরস্কার সম্পর্কে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোর এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, ‘নরওয়ের সরকার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয় না। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ সবার কাছে বিষয়টা স্পষ্ট করেছি, এবং এটা অনেকেই জানেন-পুরস্কারটি নিরপেক্ষ নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।’