সরকারি বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশ


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ /
সরকারি বেতন দ্বিগুণ করার সুপারিশ

নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরেদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেড বা ২০তম ধাপে বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ প্রথম ধাপে (প্রথম গ্রেডে) বেতন হবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বিভিন্ন রকমের পর্যালোচনা শেষে বেতন স্কেলের গ্রেড বা ধাপ চলমান পে স্কেলের মতোই ২০টি গ্রেডই রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গতকাল এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছেন। বেতন কমিশনের জমা দেওয়া এ সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। তবে নির্বাচনের আগে এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা কম। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।

নতুন এ বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরেদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এত দিন ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীদের জন্য যাতায়াতের ভাতা ছিল। এ যাতায়াতের ভাতা নতুন বেতন কমিশন ১০ম ধাপ থেকে ২০তম পর্যন্ত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন বাড়ছে ১০০ শতাংশের মতো। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৭৫ শতাংশ। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৫৫ শতাংশ।

৭৫ বছরের বেশি বয়সি পেনশনধারীদের চিকিৎসার ভাতা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। এমনিতে বয়সভেদে ৮ হাজার টাকা চিকিৎসার ভাতা। ৫৫ বছরের কম বয়সিদের চিকিৎসার ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম ধাপে বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।

এদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রতিবেদন দাখিলের পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের মূল বেতন (নির্ধারিত) ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় গ্রেডের ১ লাখ ৩২ হাজার, তৃতীয় গ্রেডের ১ লাখ ১৩ হাজার, চতুর্থ গ্রেডের ১ লাখ, পঞ্চম গ্রেডের ৮৬ হাজার, ষষ্ঠ গ্রেডের ৭১ হাজার, সপ্তম গ্রেডের ৫৮ হাজার, অষ্টম গ্রেডের ৪৭ হাজার ২০০, নবম গ্রেডের ৪৫ হাজার ১০০, দশম গ্রেডের ৩২ হাজার, ১১তম গ্রেডের ২৫ হাজার, ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডের ২৪ হাজার, ১৪তম গ্রেডের ২৩ হাজার ৫০০, ১৫ তম গ্রেডের ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডের ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডের ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডের ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডের ২০ হাজার ৫০০ এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা সর্বসাকূল্যে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকায় দাঁড়াবে।

এটা বর্তমানে রয়েছে ৮২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা। এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে এই কমিশন গতকাল নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সকল পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।