

পাকিস্তান ক্রিকেট দল ও সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি
বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানও যদি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে সে সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকবেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি। ভারতে না খেলার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে ন্যায্য ও সঠিক বলে মনে করেন তিনি।
নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ২০২৬ আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সূচি অনুযায়ী ভারতের ভেন্যুতে থাকা নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ করেছিল বিসিবি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
এর আগে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার জানিয়েছিল, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ প্রকাশ্যে টুর্নামেন্ট বয়কটের পক্ষে মত দিয়েছেন। এসবের জেরে কয়েক দিন ধরেই পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে আলোচনা চললেও পিসিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি।
এর মধ্যেই সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভির নেতৃত্বে বোর্ড যদি বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তিনি সেটির সমর্থন করবেন।
সংবাদমাধ্যম টেলিকম এশিয়া স্পোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাজাম শেঠি বলেন, ‘বিশ্বকাপ বয়কট করে বাংলাদেশ একটি ন্যায্য ও শক্ত অবস্থান নিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেয়। এটি নিঃসন্দেহে কঠিন সিদ্ধান্ত হবে, তবে আমি এমন সিদ্ধান্তের পক্ষেই থাকব। মহসিন নাকভি ক্রিকেট বোঝেন, তিনি সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকাই হবে সঠিক পথ।’
আইসিসির ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন নাজাম শেঠি। তার মতে, সংস্থাটি বড় সিদ্ধান্তগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ভারতের পক্ষ নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ইস্যুতে ভারতের পক্ষে দাঁড়ানো আইসিসির বন্ধ করা উচিত। অন্য দেশগুলোর এখনই অবস্থান নেওয়া দরকার। তখন আইসিসি বুঝবে—এটা ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল নয়, এটা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল।’
বাংলাদেশের ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি। নাজাম শেঠির ভাষায়, বিসিবির আবেদন ছিল যৌক্তিক, কারণ সেখানে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা হুমকির বিষয় ছিল। কিন্তু আইসিসি সেটিকে গুরুত্ব দেয়নি এবং ভারতের পছন্দ অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। এবারের আসরের আয়োজক দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা।
আপনার মতামত লিখুন :