

ওয়েব অব সায়েন্স (WoS)–এর র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে আণবিক ও জিনগত প্রযুক্তিতে ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে ইরান প্রথম স্থান অর্জন করেছে।আইআরএনএ জানিয়েছে, ট্রান্সফেকশন প্রযুক্তিতে ইরানের অবস্থান সবচেয়ে ভালো- বিশ্বে ১৪তম, যেখানে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১ হাজার ৬৭টি। এক্ষেত্রে আঞ্চলিক পর্যায়েও ইরান প্রথম। এরপর রয়েছে তুরস্ক (৩০৯টি), মিসর (২৭৩টি), সউদী আরব (২০৭টি) এবং মালয়েশিয়া (১৯০টি)।
CRISPR প্রযুক্তিতে ইরান বিশ্বে ২২তম এবং ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে প্রথম (৫৮৭টি গবেষণাপত্রসহ)। এই ক্ষেত্রে সউদী আরব, পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক যথাক্রমে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে রয়েছে—যাদের গবেষণাপত্র সংখ্যা ৪৩১, ৪৩০, ৩১৫ ও ২১৮।
RNA ইন্টারফেরেন্স প্রযুক্তিতে (৩৩৮টি গবেষণাপত্র) ইরানের অবস্থান বিশ্বে ২৯তম এবং ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে প্রথম। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান, মিসর, সউদী আরব ও তুরস্ক যথাক্রমে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে রয়েছে—যাদের গবেষণাপত্র সংখ্যা ২৬৯, ২৬৭, ১৯৩ ও ১৮১।
সেল থেরাপিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিস্টেম সেল ও সেল থেরাপি ক্ষেত্রে ইরান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আগের বছর যেখানে দেশটি বিশ্বে ১২তম অবস্থানে ছিল, সেখানে এখন অষ্টম স্থানে উন্নীত হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্সির আরেক কর্মকর্তা সাঈদ সারকার জানান, চলতি ইরানি বছরে (যা মার্চ ২০২৬-এ শেষ হবে) স্বাস্থ্য খাত-সংশ্লিষ্ট ২০টি প্রযুক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (SMA) রোগের ওষুধ উৎপাদন, পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসার দ্রুত শনাক্তকরণ কিটের উন্নয়নসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যভিত্তিক পণ্য। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে আইআরআইবি সারকারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে।
ঔষধি উদ্ভিদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“আমরা দুটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। প্রথমটি হলো ন্যানোপ্রযুক্তির মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঔষধি উদ্ভিদের কার্যকারিতা বাড়ানো—যেমন, কারকিউমিনযুক্ত ন্যানোক্যাপসুল ব্যবহার করে শোষণক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো প্রথাগত চিকিৎসার কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করা এবং যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফলাফল উপস্থাপন করা।”স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার নিয়ে সারকার বলেন, “আমরা রেডিওলজি ও প্যাথলজির মতো খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছি। এসব প্রযুক্তি চিকিৎসা নির্ণয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, নির্ভুলতা বাড়াবে, খরচ কমাবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় জনগণের প্রবেশাধিকার উন্নত করবে।”
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে এবং একই সঙ্গে খরচ ও ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। সূত্র: তেহরান টাইমস।
আপনার মতামত লিখুন :