চীনের শানসি প্রদেশের তাইয়ুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে যদি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়, তবে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে হাওয়াই দ্বীপে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৪৭ মিনিট। একইভাবে আমেরিকার সিয়াটল শহরে পৌঁছাতে ৫১ মিনিট এবং নিউ ইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে আঘাত হানতে সময় নেবে মাত্র ৬৪ মিনিট।
তবে লক্ষ্যবস্তু যদি গুয়ামের মতো কাছাকাছি কোনো দ্বীপ হয়, তবে চীনের উপকূলীয় শহর ফুঝু থেকে ছোড়া মিসাইল মাত্র ১৭ মিনিটেই সেখানে ধ্বংসলীলা চালাতে পারে।
তবে আশঙ্কার এখানেই শেষ নয়। চিনের অস্ত্রাগারে থাকা ডিএফ-৫সি-এর মতো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো বা আইসিবিএম আরও বেশি শক্তিশালী ও দ্রুতগামী। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শব্দের চেয়ে প্রায় ২২ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। যদি এই গতিতে কোনো হামলা চালানো হয়, তবে আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের সিয়াটলে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট এবং নিউইয়র্কে পৌঁছাতে লাগবে ২৫ মিনিটের মতো। অর্থাৎ, কোনো মার্কিন নাগরিক যদি সেই মুহূর্তে অনলাইনে পিৎজা অর্ডার করেন, তবে পিৎজা ডেলিভারি পাওয়ার আগেই চিনা ক্ষেপণাস্ত্র তার শহরে পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এই মিসাইলগুলোর গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষমতা। সাধারণত প্রচলিত ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো নির্দিষ্ট বৃত্তাকার পথে চলে। এগুলো রাডারের মাধ্যমে আগেভাগে শনাক্ত করে ধ্বংস করা সম্ভব। কিন্তু চীনের হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেলগুলো বায়ুমণ্ডলের নিচ দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে চলতে পারে, যার ফলে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এগুলোকে মাঝপথে আটকে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে চীনের এই প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপের ব্যবহার যুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে। যেখানে সাধারণ মিসাইল শনাক্ত করতে কয়েক মিনিট সময় পাওয়া যায়, সেখানে হাইপারসনিক মিসাইলের ক্ষেত্রে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাতে সময় থাকে খুব সামান্য। এই দ্রুতগামী মারণাস্ত্রের মোকাবিলা করা এখন বিশ্বরাজনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: বিজিআর.কম



আপনার মতামত লিখুন :