শিমুলের লাল রঙ্গে রাঙা শার্শা, বাড়াচ্ছে সৌন্দর্য


Shohel Rana প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ /
শিমুলের লাল রঙ্গে রাঙা শার্শা, বাড়াচ্ছে সৌন্দর্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের শার্শায় সড়কের দুই ধার আজ রাঙা লাল শিমুলে সেজেছে। বসন্তের আগমনে সারি সারি শিমুল গাছে ফুটেছে আগুনরাঙা ফুল। সকাল-বিকাল পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ভিড়ে মুখর এলাকা। প্রকৃতির এই অনিন্দ্য রূপ শুধু সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে না, জাগিয়ে তুলছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন আলোচনাও।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দশক আগে রোপণ করা এসব শিমুল গাছ আজ গ্রামের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। ফুল ঝরে ফল ধরার পর সেই ফল শুকিয়ে তৈরি হয় শিমুল তুলা। গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে এই তুলা ব্যবহার হয়ে আসছে লেপ, বালিশ, গদি ও সুপা তৈরিতে। হালকা, টেকসই ও প্রাকৃতিক হওয়ায় শিমুল তুলার আলাদা কদর রয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে শিমুল তুলাকে ঘিরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বৈদেশিক বাজারেও রপ্তানির সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক ফাইবার হিসেবে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা বাড়ছে বলেও মত তাদের।

পরিবেশবিদদের মতে, সড়কের পাশে শিমুল গাছ বনায়ন পরিবেশ রক্ষায়ও সহায়ক। দ্রুত বর্ধনশীল এই বৃক্ষ ছায়া দেয়, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে এবং গ্রামীণ পরিবেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। ফলে ছোট আঁচড়ার শিমুলতলা হতে পারে পর্যটন আকর্ষণেরও একটি কেন্দ্রবিন্দু।

গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে ছোট আঁচড়ার শিমুলতলা শুধু বসন্তের সৌন্দর্যের প্রতীকই হবে না—এটি রূপ নেবে স্থানীয় অর্থনীতির এক সম্ভাবনাময় খাতে। প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাম থেকে দেশ এগিয়ে যেতে পারে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায়। প্রকৃতির লালিমা আর উৎপাদনের সম্ভাবনা একসাথে মিললে বাংলাদেশই হতে পারে সবার আগে।
শিমুলফুল প্রকৃতির লালিমা।